মিছবাহের ‘দশম স্ত্রী’ হতে চান অ্যাথিনা, জান্নাতের আশায় বিয়ের প্রস্তাব!

ইসলামি বক্তা হাবিবুর রহমান মিছবাহকে ঘিরে আলোচনা যেন থামছেই না। একাধিক বিয়ে ও সাম্প্রতিক মামলার খবরের মধ্যেই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাথিনা তাবাসসুম মীম। মিছবাহের ‘দশম স্ত্রী’ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ফেসবুকে দেওয়া তাঁর একটি পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন কৌতূহল।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্টটি দেন মীম। সেখানে অনেকটা রসিকতা ও ব্যঙ্গের সুরে তিনি লেখেন, ‘আমি কি ১০ নম্বর বউ হতে পারি? জীবনে বহুত টিকটক করেছি, এখন আপনাকে বিয়ে করে যদি জান্নাতে যেতে পারি। জান্নাতে যাওয়ার সুযোগটা করে দেন প্লিজ।’
পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে। মন্তব্য এসেছে চার শতাধিক এবং শেয়ার হয়েছে কয়েক ডজন। স্বাভাবিকভাবেই মন্তব্যের ঘরেও দেখা গেছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।

কেউ মীমের পোস্টকে নিছক মজা হিসেবে নিয়েছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে। এইচ এম আনাস আব্দুল্লাহ নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘টিকটক করলে কি জাহান্নামি নাকি?’ অন্যদিকে রাব্বি হাসান লেখেন, ‘আপনি এত দুষ্টু কেন?’ আরও অনেকে নিজেদের মতো করে মন্তব্য করেছেন।
তবে মীমের এই পোস্টকে কেন্দ্র করে শুধু তাঁকেই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। একই সঙ্গে আবারও সামনে এসেছে মিছবাহের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গ।
সম্প্রতি মাওলানা হাবিবুর রহমান মিছবাহের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট তাঁর পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৪ মে মিছবাহের সঙ্গে হুমায়রা জান্নাতের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘আফরাদ মিছবাহ’ নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগে হুমায়রা দাবি করেছেন, বিয়ের সময় মিছবাহ তাঁর আগের চারটি বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে ছাড়াও মিছবাহ আরও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং মোট নয়টি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে এসব বিয়ের কাবিননামা বা নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ বি এম ইবরাহিম খলিলের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমায়রা জান্নাত মিছবাহের পঞ্চম স্ত্রী। এরপর আরও চারটি বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে বলে আইনজীবী দাবি করেছেন।
এসব অভিযোগ ও দাবি নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই মীমের ‘দশম স্ত্রী’ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের পোস্ট সেই আলোচনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। তাঁর বক্তব্যটি সত্যিই বিয়ের প্রস্তাব, নাকি নিছক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতা—তা অবশ্য পোস্টে স্পষ্ট করেননি মীম।
ফলে একদিকে মিছবাহের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলমান বিতর্ক, অন্যদিকে মীমের ভাইরাল পোস্ট—দুই মিলিয়ে বিষয়টি এখন নেটদুনিয়ায় বেশ আলোচিত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ও মামলার অভিযোগ—দুটিই সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবে দেখা উচিত; অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।



