বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

স্ক্রিন টাইম কমাতে চান? আজ থেকেই বদলে ফেলুন এই ৫ অভ্যাস

screen-use-at-night-and-insomia-risk-1440×810

স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ, কাজ, বিনোদন কিংবা তথ্য—সবকিছুই কয়েক ইঞ্চির একটি পর্দায় সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে। কিন্তু প্রয়োজনের গণ্ডি পেরিয়ে যখন ফোন হয়ে ওঠে একাকিত্ব, বিরক্তি বা মানসিক অস্বস্তি থেকে পালানোর প্রধান আশ্রয়, তখনই শুরু হয় সমস্যা।

কাজের ফাঁকে একটু ফোন দেখা, ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুঁ মারা কিংবা কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে বারবার স্ক্রল করা—এসব ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। এর প্রভাব শুধু সময় নষ্ট হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; মনোযোগ কমে, মেজাজ খিটখিটে হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং কাছের মানুষদের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে কী হয়?

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব ডুইসবার্গ-এসেনের গবেষকদের একটি গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্কদের অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা এবং দৈনন্দিন দায়িত্বে ব্যাঘাতের সম্পর্ক উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমিং, শপিং বা অন্যান্য অনলাইন কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত সময় দেওয়া ব্যক্তিদের জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় মানুষ শুধু বিরক্ত বা মন খারাপ বলেই অনলাইনে যায় না। বরং কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হঠাৎ ফোন দেখার তাগিদ তৈরি হয়। সেই তাগিদকে চিহ্নিত করা এবং প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে কিছুটা বিরতি নেওয়া অভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

অনলাইনের অশান্তি যখন বাস্তব জীবনে

Advertisements

দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ডুবে থাকার ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এতে অসন্তুষ্টি বা হতাশা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

রাত জেগে ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও বিঘ্নিত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরদিন মনোযোগ, কর্মক্ষমতা ও মেজাজ—সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ে। ফলে অনলাইনের কয়েক ঘণ্টা কখন যে অফলাইন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেড়ে নিচ্ছে, তা অনেক সময় বোঝাই যায় না।

স্ক্রিন টাইম কমানোর ৫ উপায়

১. ফোন ধরার আগে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন

হঠাৎ ফোন দেখার ইচ্ছা হলেই সঙ্গে সঙ্গে সেটি হাতে না নিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এ সময় একটু হাঁটুন, পানি পান করুন, গান শুনুন কিংবা কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে এই বিরতির সময় বাড়ানো যায়।

২. প্রতিদিন কিছু সময় রাখুন ‘স্ক্রিন-ফ্রি’

খাওয়ার সময়, পরিবারের সঙ্গে আড্ডা কিংবা দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ফোন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার অভ্যাস করুন। এই সময়ে বই পড়া, গল্প করা, হাঁটাহাঁটি বা অন্য কোনো অফলাইন কাজে মন দেওয়া যেতে পারে।

৩. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন

প্রতিটি নোটিফিকেশন আমাদের মনোযোগের ওপর ছোট্ট একটি ধাক্কা দেয়। তাই প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন। এতে বারবার ফোন পরীক্ষা করার প্রবণতাও কমতে পারে।

৪. ঘুমের আগে ফোনকে দূরে রাখুন

বিছানায় যাওয়ার সময় ফোন হাতের কাছে রাখলে অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার ঝুঁকি থাকে। তাই ঘুমের আগে ফোন দূরে রাখুন এবং সম্ভব হলে শোবার ঘরে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস কমিয়ে আনুন।

৫. ফোনের আকর্ষণ কিছুটা কমিয়ে দিন

স্মার্টফোনের ডিসপ্লে গ্রেস্কেল বা সাদা-কালো করে ব্যবহার করতে পারেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলো হোমস্ক্রিন থেকে সরিয়ে রাখা বা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবহারসীমা নির্ধারণ করাও কাজে আসতে পারে।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য, জীবন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নয়। তাই ফোন বা ইন্টারনেট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। দিনের কিছুটা সময় স্ক্রিনের বাইরে কাটান, প্রকৃতির কাছে যান, প্রিয়জনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। কারণ বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা ও আনন্দের বিকল্প কোনো ভার্চুয়াল পর্দা হতে পারে না।

Advertisements