ব্রণ হলে কী করেন অনন্যা পাণ্ডে?

বিয়ে, জন্মদিন কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগের দিন অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দেয়। এতে সাজগোজের ইচ্ছাটাই নষ্ট হয়ে যায়। কেবল তরুণী কিংবা সাধারণ মানুষেরাই যে এ সমস্যায় ভোগেন, তা নয়; তারকারাও ব্রণের সমস্যায় পড়েন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনই মনোকষ্টের কথা শেয়ার করেছেন বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে। তিনি নিজের ব্রণভরা মুখের ছবি মেকআপ ছাড়া পোস্ট করেন। তবে ব্রণের ওপর তিনি লাগিয়েছিলেন ‘পিম্পল প্যাচ’।

ইদানীং রাতারাতি ব্রণ সারাতে ‘পিম্পল প্যাচ’-এর ব্যবহার বাড়ছে। এটি ছোট, গোল ও স্বচ্ছ একধরনের হাইড্রোকলয়েড ব্যান্ডেজ। ব্রণের ওপর এটি লাগালে ভেতর থেকে পুঁজ, তেল ও ক্ষতিকর তরল শুষে নেয়। পাশাপাশি প্যাচটি ব্রণের ওপর একটি সুরক্ষাকবচের মতো কাজ করে, ফলে বাইরের ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ব্রণের সংস্পর্শে আসতে পারে না। ব্রণ ঢাকা থাকায় ময়লা হাত দিয়ে বারবার ব্রণে স্পর্শ করার সুযোগও কমে যায়। ফলে ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে।
আবার কোনো কোনো ‘পিম্পল প্যাচ’-এ স্যালিসাইলিক অ্যাসিড এবং বেঞ্জয়েল পারক্সাইডের মতো ব্রণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক উপাদানও থাকে। এসব উপাদান ব্রণের ওপর প্রয়োগের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে ‘পিম্পল প্যাচ’ সাময়িকভাবে ব্যবহার করা গেলেও এটিকে ব্রণের স্থায়ী ওষুধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্রণ হলে নিজের ইচ্ছেমতো এটা-সেটা ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি জীবনযাপনেও নিয়ন্ত্রণ আনা প্রয়োজন। কারণ, ‘পিম্পল প্যাচ’ ব্রণের স্থায়ী সমাধান নয়। এ ছাড়া সবার ত্বকে এটি সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে প্যাচ ব্যবহারে ত্বকে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।
ব্রণ এড়াতে কী করণীয়

নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ত্বকের ধরন ও উপযোগিতা অনুযায়ী ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করে কোমলভাবে মুখ পরিষ্কার করা উচিত।
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও জরুরি। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাবার গ্রহণও ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রণ হলে বারবার মুখে হাত দেওয়া বা ব্রণ খোঁটার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। এতে ত্বকের আরও ক্ষতি হতে পারে এবং ব্রণের দাগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ব্রণ হলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কেবল ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ভুল উপাদান বা ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করলে ব্রণের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।



