পিংক বাস: ট্রল নয়, আত্মবিশ্বাসেই এগিয়ে যাচ্ছেন নারী চালকেরা

নারীদের জন্য চালু হওয়া ‘পিংক বাস’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা ধরনের আলোচনা। অনেক নারী যাত্রী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নারী চালকদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও নেতিবাচক মন্তব্যও দেখা যাচ্ছে। তবে এসব সমালোচনায় দমে যেতে চান না চালকেরা। বরং নিজেদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমালোচনার জবাব দিতে চান তারা।

গত মঙ্গলবার ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে নারী চালক ও কনডাক্টর পরিচালিত নারীদের জন্য ১৩টি রুটে ১৪টি বাস চালু করে বিআরটিসি। ঢাকায় ১০টি রুটে চলছে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস। গোলাপি রঙের এসব বাস পরিচিতি পেয়েছে ‘পিংক বাস’ নামে।
পিংক বাসের চালক খাদিজা আক্তার একসময় গৃহিণী ছিলেন। ২০২১ সালে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে পরে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এখন নারী যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছবি ব্যবহার করে করা নানা ধরনের ট্রল তাকে হতাশ করলেও কাজ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা নেই তার।

খাদিজার মতে, নারীরা কোনো নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। পরিবহন খাতসহ দেশের যেকোনো পেশায় তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন। নারী যাত্রীরা বাসে উঠে চালকদের উৎসাহ দিচ্ছেন এবং তাঁদের গর্বের কারণ হিসেবে দেখছেন—এটিই চালকদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
আরেক চালক সাথী খাতুনও মানুষের নেতিবাচক কথাকে গুরুত্ব দিতে চান না। ছয় বছর আগে বিআরটিসিতে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়া সাথী বর্তমানে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। তার বিশ্বাস, নারী চালকদের দেখে অনেক বেকার ও আগ্রহী নারী পরিবহন খাতে কাজ করার সাহস পাবেন। তার ভাষায়, মানুষের কথায় কান দিলে জীবনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন।

চালক রাবেয়া খাতুনও মনে করেন, এই পেশায় আসার সঙ্গে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আগে থেকেই জানা ছিল। তার মতে, চালকদের নিরাপদে কাজ করার জন্য শুধু তাদের দক্ষতা নয়, পথচারী ও অন্যান্য চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলাও জরুরি। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, পরিবহন খাতে নারীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
পিংক বাস নিয়ে মতভেদ থাকলেও নারী চালকদের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। কেউ তাদের প্রশংসা করছেন, কেউ আবার বিদ্রূপ করছেন। কিন্তু চালকদের বক্তব্য একটাই—সমালোচনার জবাব তারা কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দিতে চান। তাদের এই যাত্রা শুধু একটি নতুন বাসসেবার সূচনা নয়; কর্মক্ষেত্রে নারীর সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসেরও একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।



