ট্রেন্ডিং ‘ক্লাউডি স্কিন’, যেভাবে পাবেন মেঘের মতো কোমল ত্বক

কয়েক বছর ধরে সৌন্দর্যচর্চায় বেশ জনপ্রিয় ছিল কোরিয়ান ‘গ্লাস স্কিন’। স্বচ্ছ, মসৃণ ও চকচকে ত্বক পাওয়ার জন্য রূপসচেতনদের মধ্যে এই প্রবণতা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে বিউটি ট্রেন্ডও। অতিরিক্ত উজ্জ্বল ও চকচকে ত্বকের পরিবর্তে এখন তরুণ প্রজন্মের পছন্দ হয়ে উঠছে তুলনামূলক নরম, মসৃণ ও স্নিগ্ধ ‘ক্লাউডি স্কিন’।

নাম শুনেই হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে, ক্লাউডি স্কিন আসলে কেমন? সহজভাবে বললে, এমন ত্বককে ক্লাউডি স্কিন বলা হয়, যেখানে ত্বকের স্বাভাবিক আভা বজায় থাকে, কিন্তু উপরিভাগে থাকে নরম ও মখমলি ধরনের ফিনিশ। অর্থাৎ এটি একেবারে ম্যাট নয়, আবার গ্লাস স্কিনের মতো অতিরিক্ত চকচকেও নয়। অনেকটা কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে মেঘের নরম আবরণের মতো কোমল ও মসৃণ দেখায় ত্বক।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ক্লাউডি স্কিন
ক্লাউডি স্কিনের জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে যারা ভারী মেকআপের পরিবর্তে স্বাভাবিক ও পরিপাটি লুক পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই ট্রেন্ডটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিক দেখায়
গ্লাস বা ডিউই স্কিনে ত্বক অনেক বেশি চকচকে দেখাতে পারে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা উজ্জ্বল আলোতে অতিরিক্ত তেলতেলে কিংবা ঘর্মাক্ত মনে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্লাউডি স্কিনে সেই অতিরিক্ত শাইন না থাকায় ত্বক তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ও পরিপাটি দেখায়।
বিভিন্ন ধরনের ত্বকে মানিয়ে যায়
তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকে দীর্ঘসময় গ্লাস স্কিনের উজ্জ্বলতা ধরে রাখা বেশ কঠিন। অন্যদিকে ক্লাউডি স্কিনের সেমি-ম্যাট ফিনিশ মুখের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের ত্বকের মানুষই এই লুক অনুসরণ করতে পারেন।
মেকআপ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হয়
অতিরিক্ত ডিউই বা চকচকে মেকআপ অনেক সময় দ্রুত গলে যেতে পারে। ক্লাউডি স্কিনে হালকা পাউডার ব্যবহার করে মেকআপ সেট করা হয়। এতে মেকআপ ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে বসে থাকে এবং দীর্ঘসময় পরও লুকটি তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকে।

যেভাবে পাবেন ক্লাউডি স্কিন
ক্লাউডি স্কিন পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো ত্বকের ভেতরে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং বাইরে খুব হালকা ম্যাট বা সেমি-ম্যাট ফিনিশ তৈরি করা। অর্থাৎ ত্বক যেন শুষ্ক না হয়, আবার অতিরিক্ত তেলতেলেও না দেখায়—এই ভারসাম্যটাই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। চাইলে প্রথম ধাপে অয়েল-বেসড ক্লিনজার এবং পরে ওয়াটার-বেসড ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বকের ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও মেকআপের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার হবে।
এরপর ত্বকের আর্দ্রতা ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব উপাদান ত্বককে আর্দ্র ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করে। তবে নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি।
সিরামের পর ভারী ও ঘন ক্রিমের পরিবর্তে হালকা, জলীয় বা ওয়াটার-বেসড ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে, কিন্তু মুখ ভারী বা অতিরিক্ত তেলতেলে দেখাবে না।
মেকআপ শুরু করার আগে ব্লারিং প্রাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বকের অসমান অংশ ও দৃশ্যমান পোরস কিছুটা কম দৃশ্যমান করে একটি মসৃণ বেস তৈরি করতে সাহায্য করবে। ফলে ত্বকে কুয়াশার মতো সফট ও স্মুথ ফিনিশ পাওয়া যায়।

এরপর ভারী ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে স্কিন টিন্ট, বিবি ক্রিম অথবা হালকা ধরনের লিকুইড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য পুরোপুরি ঢেকে যাবে না এবং মেকআপও দেখতে তুলনামূলক স্বাভাবিক লাগবে।
সবশেষে ক্লাউডি স্কিন লুকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পাউডার ব্যবহার। একটি বড় মেকআপ ব্রাশে অল্প পরিমাণ লুজ ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার নিয়ে টি-জোন ও প্রয়োজন অনুযায়ী গালের অংশে হালকা করে লাগাতে হবে। এতে মুখের অতিরিক্ত চকচকে ভাব কমবে এবং ত্বকে নরম, মখমলি ফিনিশ তৈরি হবে।
ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার সাধারণত বর্ণহীন হওয়ায় ত্বকের স্বাভাবিক রং পরিবর্তন করে না। পাশাপাশি এটি মেকআপ সেট করতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত ভারী বা কৃত্রিম না দেখিয়ে ত্বকে পাওয়া যায় কোমল, মসৃণ ও ন্যাচারাল ক্লাউডি স্কিন লুক।



