শিশু-নারী সুরক্ষা ও প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কর্মশালা

শিশু ও নারীর সুরক্ষা, যৌন নিপীড়ন ও শোষণ প্রতিরোধ (পিএসইএ), সেফগার্ডিং এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেলে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত স্বপ্নের সারথি প্রকল্পের সি-শোর গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় কক্সবাজারের কলাতলীতে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় জেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তরুণ প্রতিনিধিসহ ৫০ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ থেকে ২৭ জন, সমাজসেবা বিভাগ থেকে ৭ জন, খেলাধুলাভিত্তিক সংগঠনের ৫ জন এবং একটি এনজিওর একজনসহ ৪০ জন অংশীজন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছিলেন। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ১০ কর্মকর্তা-কর্মীও এতে অংশ নেন।
কর্মশালায় পিএসইএ ও সেফগার্ডিং বিষয়ে আলোচনা করেন জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পিপল অ্যান্ড কালচার বিভাগের প্রধান ফারহানা আজিজ। তিনি নিরাপদ আচরণ, যৌন নিপীড়ন ও শোষণ প্রতিরোধ, অভিযোগ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন বিভাগের প্রধান ইফতিখার-উল-করিম। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান সুযোগ, মর্যাদা ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সময় প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তরুণীদের সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার বিষয়ও উঠে আসে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল আওয়াল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের চাইল্ড রাইটস অফিসার মো. কামরুল হাসান কক্সবাজারে পিএসইএ বিষয়ে চলমান ভালো চর্চার কথা তুলে ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পিয়ার লিডার জয় দে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় কার্যকর ফল পেতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, অভিযোগ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা, রেফারেল প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে দলগত আলোচনা হয়। শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পিএসইএ ও সেফগার্ডিং নীতি মেনে চলা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকার অঙ্গীকার করেন।



