বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
নারী

‘আংশিক শিথিলতা নয়, সান্ধ্য আইন পুরোপুরি বাতিল করতে হবে’; ঢাবির নারী শিক্ষার্থী

CznNewsLabe2d8fd8b-4bb4-4b52-8b6

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের হলে রাত ১০টার মধ্যে প্রবেশের সময়সীমা এক ঘণ্টা শিথিল করার প্রশাসনিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ‘সান্ধ্য আইন’ সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’। তাদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা কোনো সমাধান নয়। বরং ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান প্ল্যাটফর্মটির নেতারা। ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মে ডাকসু নির্বাচনে বামপন্থি প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের নারী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নারী শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই থেকে তিন দফা দাবি নিয়ে ‘অবরোধবাসিনী’ ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত ৯ আগস্ট উপাচার্য বরাবর এক হাজার ২০০-এর বেশি নারী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর পরদিন ১০ আগস্ট আয়োজিত সংহতি সমাবেশ থেকে ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনকে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের মূল দাবি বিবেচনায় না নিয়ে প্রশাসন ‘সান্ধ্য আইন’ আংশিকভাবে শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এই প্রস্তাবকে ‘প্রহসন’, অসম্মানজনক ও আপসমূলক বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইশরাত জাহান ইমু বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আংশিক শিথিলের প্রস্তাব নারী শিক্ষার্থীদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।

নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি নিরাপত্তার নামে বৈষম্যমূলক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুরুষ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা অবাধে চলাচল করতে পারলেও নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সান্ধ্য আইনের মাধ্যমে রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করে প্রশাসন নিরাপত্তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মতে, এটি এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য।

Advertisements

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, শুধু আবাসিক হলে প্রবেশের ক্ষেত্রেই নয়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানেও নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে। রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান, কার্জন হল এলাকায় প্রবেশ এবং সন্ধ্যার পর জিমনেশিয়ামের ইনডোর গেমসে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়।

এ ছাড়া রাতে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গেলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের পর হলে প্রবেশ করতে হলে নারী শিক্ষার্থীদের লিখিত মুচলেকা দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ওই মুচলেকায় ‘নিরাপত্তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না’—এমন শর্ত যুক্ত থাকে। অথচ একই ধরনের শর্ত পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব অদিতি ইসলাম এবং নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা ইসলামও বক্তব্য দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের নারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ কিংবা সাময়িক শিথিলতা চান না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা অবাধে চলাচলের অধিকার এবং একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার চান তারা।

তারা আরও বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত পুরো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি, পথসভা এবং হলভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

Advertisements