৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
রূপ-সৌন্দর্য

বয়স তো বাড়েনি, তবু ত্বকে বলিরেখা? দায়ী হতে পারে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস

IMG-20261004-WA0031

বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা, শুষ্কতা, বলিরেখা কিংবা ত্বকের স্বাভাবিক টানটান ভাব কমে আসা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বয়সের তুলনায় যদি এসব পরিবর্তন অনেক আগেই চোখে পড়ে, তাহলে শুধু বয়সকে দায়ী করার সুযোগ নেই। আপনার প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত প্রভাবও ত্বকের ওপর ফেলতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ছাপ।

ত্বকের অকাল বার্ধক্যের সঙ্গে যে বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছেন, তার একটি হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। সহজভাবে বললে, শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়া এবং বাইরের বিভিন্ন পরিবেশগত প্রভাবে কিছু অস্থির অণু তৈরি হয়। শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ব্যবস্থা সাধারণত এগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে। কিন্তু ক্ষতিকর অণুর পরিমাণ যখন শরীরের প্রতিরোধক্ষমতার তুলনায় বেশি হয়ে যায়, তখন তৈরি হতে পারে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস।

এর প্রভাব শুধু ত্বকে সীমাবদ্ধ নয়; শরীরের বিভিন্ন কোষ ও অঙ্গও এতে প্রভাবিত হতে পারে। ত্বকের ক্ষেত্রে কোষের ক্ষতি এবং ত্বকের গঠন ও স্থিতিস্থাপকতায় পরিবর্তনের সঙ্গে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বয়সের আগেই ত্বকে ক্লান্তি, শুষ্কতা কিংবা সূক্ষ্ম রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

কোন অভ্যাসগুলো বাড়াতে পারে ঝুঁকি?

প্রতিদিনের জীবনযাপন ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, অতিরিক্ত সূর্যালোক এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত রোদে থাকার বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোষ ও গঠনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের অকাল বার্ধক্যের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত মিষ্টি ও বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল খাদ্যাভ্যাসও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ নয়। তাই ত্বক ভালো রাখতে শুধু বাইরে থেকে প্রসাধনী ব্যবহার নয়, ভেতর থেকেও শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি।

Advertisements

খাবারের প্লেটেই থাকুক ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্নে আলাদা কোনো ‘জাদুকরী’ খাবারের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, বাদাম ও বীজ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

আমলকি, পালংশাক, ব্রোকলি, বিভিন্ন ফল, আখরোট, কাঠবাদাম, তিসি ও কুমড়োর বীজে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব খাবার শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও বাদ দেওয়া যাবে না। কারণ সুস্থ ত্বকের পেছনে শুধু একটি নির্দিষ্ট উপাদান নয়, বরং সামগ্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক চাপের দিকেও নজর দিন

দিনভর কাজের চাপ, উদ্বেগ কিংবা মানসিক অস্থিরতা শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান কিংবা পছন্দের কোনো শান্ত কাজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ থেকে সুরক্ষা ভুলবেন না

ত্বকের অকাল বার্ধক্য ঠেকাতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা নেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাতা, পোশাক বা অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা যায়।

তবে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার কোনো একক সূত্র নেই। শুধু একটি খাবার খাওয়া, নির্দিষ্ট কোনো পানীয় পান করা কিংবা ঘরোয়া কোনো উপায় অনুসরণ করলেই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

বরং স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা—এই অভ্যাসগুলোর সমন্বিত চর্চাই দীর্ঘমেয়াদে ত্বক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্নে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকে অস্বাভাবিক বা দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিলে নিজের মতো করে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Advertisements