গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মা হওয়ার যাত্রা শুরু হয় গর্ভধারণের সঙ্গে সঙ্গেই। গর্ভাবস্থার প্রতিটি ধাপে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিক বা গর্ভধারণের পর প্রথম ১২ সপ্তাহ শিশুর বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় একদিকে যেমন শিশুর প্রধান অঙ্গগুলো গঠিত হতে শুরু করে, অন্যদিকে মায়ের শরীরেও দেখা দিতে পারে বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, স্তনে ব্যথা ও মেজাজের পরিবর্তন।
গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই নিয়মিত প্রসবপূর্ব যত্ন নেওয়া জরুরি। গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যমান কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও নিয়মিত ওষুধ সেবনের বিষয়ে জানাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করাও উচিত নয়।
শিশুর সঠিক বিকাশে ফলিক অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) সাধারণত গর্ভাবস্থার অন্তত প্রথম ১২ সপ্তাহ প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেয়। এটি স্পাইনা বাইফিডার মতো নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তবে কিছু নারীর ক্ষেত্রে বেশি মাত্রার প্রয়োজন হতে পারে। তাই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রথম দিকে বমি বমি ভাব বা খাবারে অরুচি থাকলে একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি, ফল, শস্যদানা, ডাল, দুগ্ধজাত খাবার বা উপযুক্ত বিকল্প এবং বিভিন্ন ধরনের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি।
শারীরিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে হাঁটা, সাঁতার কিংবা গর্ভাবস্থার উপযোগী ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে গর্ভধারণের আগে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকলে হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। ধীরে ধীরে সক্রিয়তা বাড়ানো এবং শরীরের সংকেত অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় মদ্যপান, ধূমপান ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, ভেষজ প্রস্তুতি বা অন্য কোনো ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা উচিত নয়।
ব্যায়ামের সময় নিজেকে অতিরিক্ত ক্লান্ত বা অতিরিক্ত গরম করে ফেলা থেকেও বিরত থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং অস্বস্তি বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হলে ব্যায়ামের গতি কমিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে।
এ সময় ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট বা অপ্রয়োজনীয় খাদ্যনিষেধ মেনে চলাও ঠিক নয়। বরং মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। গর্ভাবস্থার প্রতিটি ধাপে মায়ের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, তাই ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



