বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি কেন হয়?

IMG_3626

ঘুমাতে যাওয়ার সময় হঠাৎ মনে হলো, আপনি যেন পড়ে যাচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে হাত-পা কেঁপে উঠল বা চমকে ঘুম ভেঙে গেল। অনেকেরই ঘুমের শুরুতে এমন অভিজ্ঞতা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই আকস্মিক নড়াচড়াকে বলা হয় ‘হিপনিক জার্ক’।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী সময়ে শরীর দ্রুত শিথিল হয়ে আসার সময় মস্তিষ্কের সংকেতের সাময়িক অসামঞ্জস্য থেকেই সাধারণত এমনটা ঘটে। ওই মুহূর্তে শরীরের শিথিল হয়ে যাওয়াকে মস্তিষ্ক কখনো কখনো পড়ে যাওয়ার মতো বিপদ হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। এরপর পেশি সংকুচিত করার সংকেত পাঠায়। ফলে হঠাৎ হাত-পা কেঁপে ওঠে।

ঘুমের মধ্যে হিপনিক জার্ক হলে অনেকের মনে হতে পারে, তারা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পড়ে যাচ্ছেন কিংবা হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছেন। এটি অনেকটা স্বপ্নের মতো অনুভূতি হলেও পুরোপুরি স্বপ্ন নয়; বরং ঘুমে যাওয়ার মুহূর্তে তৈরি হওয়া এক ধরনের ভ্রমাত্মক অনুভূতি।

স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের নিউরোমেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. ইসরাত জেরিন আলমের মতে, হিপনিক জার্ককে মস্তিষ্কের এক ধরনের ‘মিসফায়ার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। ঘুমের সময় শরীরের পেশি শিথিল হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কও বিশ্রামের দিকে যায়। তবে ঘুমের শুরুতে মস্তিষ্কের কিছু অংশ পুরোপুরি ঘুমের সংকেতের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারলে হঠাৎ পেশিতে সংকোচনের নির্দেশ যেতে পারে।

জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের হিপনিক জার্ক হতে পারে বলে গবেষণায় ধারণা করা হয়। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও এর সঙ্গে বয়সজনিত মস্তিষ্কের পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, ঘুমানোর আগে ভারী ব্যায়াম, নিকোটিন, অ্যালকোহল এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন হিপনিক জার্কের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের আগে চা-কফি, এনার্জি ড্রিংক বা চকলেটের মতো ক্যাফেইনযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে এমন ঘটনা বাড়তে পারে।

হিপনিক জার্ক সাধারণত শরীর বা মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি করে না। তবে বারবার হলে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ঘটনা কমাতে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত ঘুমানো, মানসিক চাপ কমানো এবং ঘুমের আগে ভারী ব্যায়াম ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘুমের আগে ধ্যান, হালকা বই পড়া বা কুসুম গরম পানিতে গোসলও আরামদায়ক ঘুমে সহায়তা করতে পারে।

তবে ঘুমের মধ্যে হিপনিক জার্কের পাশাপাশি খিঁচুনি, অতিরিক্ত নড়াচড়া, চিৎকার, ধস্তাধস্তি, পাশের মানুষকে আঘাত করা কিংবা অস্বাভাবিক কোনো কাজ করার ঘটনা ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে জেগে থাকা অবস্থায়ও শরীরের কোনো পেশি বারবার কেঁপে উঠলে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে নড়াচড়া করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisements
স্বাস্থ্য