বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

মিষ্টি স্বাদ আর পুষ্টিগুণে ভরপুর ড্রাগন ফল কারা খেতে পারবেন না?

IMG_3610

আকর্ষণীয় রং, মিষ্টি স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে ড্রাগন ফলকে অনেকে ‘সুপার ফ্রুট’ বলে থাকেন। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছে ফলটি। তবে উপকারিতার পাশাপাশি অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খেলে ড্রাগন ফলে দেখা দিতে পারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাই কারা খাবেন, কারা সতর্ক থাকবেন এবং দৈনিক কতটা খাওয়া উচিত, তা জানা জরুরি।

রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও সতর্কতার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহানের মতে, ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ও আয়রন রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। বিশেষ করে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ফলটি উপকারী হতে পারে।

ড্রাগন ফলে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও ফলটি উপকারী বলে জানান তিনি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতেও ড্রাগন ফল ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের খালি পেটে ড্রাগন ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। খালি পেটে খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও ড্রাগন ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এতে অল্প পরিমাণ অক্সালেট থাকে, যা কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলেও জানান ইসরাত জাহান। ব্যক্তিভেদে এ ফল খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি বমি ভাব বা অ্যালার্জির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

দৈনিক পরিমাণের বিষয়ে পুষ্টিবিদ জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ড্রাগন ফল যথেষ্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম রাখা যেতে পারে। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা ড্রাগন ফল দই বা অন্য ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।

Advertisements
ড্রাগনফলস্বাস্থ্য