চুলের আগা ফাটা বন্ধ করতে কী করবেন?

চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পণ্য ব্যবহার করেন। তবে ভুল পণ্য বা ভুলভাবে চুলের যত্ন নেওয়ার কারণে চুলের উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে। চুল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়া ও আগা ফাটার প্রবণতা বাড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে চুল রুক্ষ ও অস্বাস্থ্যকর দেখানোর পাশাপাশি পাতলা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
চুলের আগা একবার ফেটে গেলে কেটে ফেলা ছাড়া তা স্থায়ীভাবে ঠিক করার উপায় নেই। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে আগা ফাটা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রতিদিন চুল ধোয়া এড়িয়ে চলুন
প্রতিদিন চুল ধুলে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেল কমে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন শ্যাম্পু না করে দুই থেকে তিন দিন পরপর চুল ধোয়ার অভ্যাস করা ভালো।
সঠিকভাবে চুল আঁচড়ান
চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে নরম ব্রিসল বা নরম প্যাডযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। ভেজা চুল আঁচড়ানোর সময় চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। ব্লো-ড্রাই করার সময় চুলের আগার জট আগে ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে যেতে হবে। গরম স্টাইলিং সরঞ্জাম ব্যবহারের আগেও চুল ভালোভাবে আঁচড়ে নেওয়া প্রয়োজন।
চুলে সরাসরি শ্যাম্পু ঘষবেন না
শ্যাম্পু মূলত মাথার ত্বকে লাগিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। শ্যাম্পু ধুয়ে ফেলার সময় সেটি চুলের বাকি অংশে স্বাভাবিকভাবেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুরো চুলে আলাদা করে শ্যাম্পু ঘষার প্রয়োজন নেই।
আগায় আগে কন্ডিশনার দিন
কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় চুলের আগায় আগে লাগানো ভালো। কয়েক মিনিট রেখে দিলে কন্ডিশনার চুলে ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ পায়।
চুল মোছার সময় ঘষাঘষি করবেন না
তোয়ালে দিয়ে চুল জোরে মোচড়ানো বা ঘষলে চুলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ক্ষতি হতে পারে। এর পরিবর্তে তোয়ালে দিয়ে চুল আলতোভাবে চেপে পানি শুষে নেওয়া উচিত।
চুলের আগায় সরাসরি তাপ দেবেন না
চুলের ডগা তুলনামূলকভাবে বেশি ভঙ্গুর। তাই ব্লো-ড্রায়ারের মতো তাপযুক্ত যন্ত্র ব্যবহারের সময় চুলের মাঝের অংশ শুকানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত এবং যতটা সম্ভব আগায় সরাসরি তাপ দেওয়া এড়িয়ে চলা দরকার।
হিট স্টাইলিংয়ের পদ্ধতি বদলান
কার্লিং আয়রন বা এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় চুলের ডগায় অতিরিক্ত তাপ দেওয়া উচিত নয়। গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পুরো চুল আয়রনের চারপাশে শক্ত করে জড়ানোর পরিবর্তে গোড়ার দিকে সরঞ্জামটি রেখে সাবধানে চুল জড়ানো যেতে পারে।
নিয়মিত চুল ছাঁটুন
আগা ফাটা প্রতিরোধে নিয়মিত চুল ছাঁটা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে ছয় থেকে আট সপ্তাহ পরপর চুলের আগা ছাঁটলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বাড়তে না দেওয়ার পাশাপাশি চুলকে গোছানো ও স্বাস্থ্যকর দেখাতে সাহায্য করতে পারে।



