বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

জেন–জির মধ্যে কেন বাড়ছে ‘ইমোশনাল ইটিং’?

IMG_3253

পরীক্ষায় খারাপ ফল, সম্পর্কের টানাপোড়েন, একঘেয়েমি কিংবা মানসিক চাপ—এসব পরিস্থিতিতে মন ভালো করতে অনেকেই প্রিয় খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ইমোশনাল ইটিং’ নামে পরিচিত এই প্রবণতা জেন–জির মধ্যে আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

শারীরিক ক্ষুধার কারণে নয়, বরং আবেগের প্রতিক্রিয়ায় খাবার খাওয়াকেই ‘ইমোশনাল ইটিং’ বলা হয়। পরীক্ষা খারাপ হওয়া, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব, হতাশা এমনকি আনন্দের মুহূর্তেও অনেকেই খাবারে স্বস্তি খোঁজেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাসের বড় একটি অংশই আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়। মনোবিজ্ঞানী ডা. সুসান অ্যালবার্সের ভাষ্য, খাদ্যাভ্যাসের প্রায় ৭৫ শতাংশের পেছনে কোনো না কোনোভাবে আবেগ কাজ করে।

বাংলাদেশেও এই প্রবণতা বাড়ছে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া জেন–জির খাদ্য নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বৈশ্বিক খাদ্যসংস্কৃতি, বন্ধুদের প্রভাব এবং মানসিক তৃপ্তির আকাঙ্ক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, পরীক্ষার চাপ বা অ্যাসাইনমেন্টের ডেডলাইনের সময় খাবারের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন–জির কাছে রেস্তোরাঁ এখন শুধু খাওয়ার জায়গা নয়; এটি আড্ডা, ছবি তোলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এবং কিছু সময়ের জন্য মানসিক চাপ ভুলে থাকারও একটি মাধ্যম। ফলে ফাস্টফুড বা আকর্ষণীয় খাবার অনেকের কাছে আবেগ সামলানোর সহজ উপায় হয়ে উঠছে।

Advertisements

তবে নিয়মিত এ অভ্যাসের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। কারণ, ইমোশনাল ইটিংয়ের সময় অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে তেল-চর্বি, চিনি ও ক্যালোরি বেশি থাকা খাবার বেছে নেন। পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদের মতে, দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে স্থূলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের সমস্যা এবং শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝেমধ্যে প্রিয় খাবার খেয়ে মন ভালো করা অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রতিবার মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় যদি খাবার হয়ে ওঠে, তাহলে তা সতর্কবার্তা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, নিজের অনুভূতি প্রকাশ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Advertisements
খাবারজেন জিস্ট্রেস ইটিং