চ্যাটজিপিটিতে ১০০ শব্দের ই-মেইল লিখতে লাগে আধা লিটারের বেশি পানি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিক এটি ব্যবহার করেছেন। তবে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর তৈরিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড-এর গবেষকদের যৌথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিপিটি-৪ মডেল ব্যবহার করে ১০০ শব্দের একটি ই-মেইল তৈরি করতে গড়ে প্রায় ৫১৯ মিলিলিটার পানি খরচ হয়, যা একটি পানির বোতলের চেয়েও কিছুটা বেশি।
যদি একজন ব্যবহারকারী বছরে সপ্তাহে একবার করে ১০০ শব্দের একটি ই-মেইল তৈরি করেন, তবে তার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ২৭ লিটার পানি। আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর প্রতি ১০ জনে একজন যদি একইভাবে বছরে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন, তাহলে মোট পানির ব্যবহার দাঁড়াবে ৪৩৫ মিলিয়ন লিটারেরও বেশি, যা রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সব পরিবারের প্রায় দেড় দিনের পানির চাহিদার সমান।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ১০০ শব্দের একটি ই-মেইল তৈরিতে প্রায় ০.১৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ লাগে, যা ১৪টি এলইডি বাতি এক ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখার সমপরিমাণ। বছরে সপ্তাহে একবার করে ব্যবহার করলে একজনের বিদ্যুৎ খরচ হয় প্রায় ৭.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবী প্রতি ১০ জনে একজন এভাবে ব্যবহার করলে মোট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা, যা ওয়াশিংটন ডিসির সব পরিবারের প্রায় ২০ দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান।
গবেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ডেটা সেন্টারের সার্ভারগুলোকে বিপুল পরিমাণ গণনা করতে হয়। এতে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি বা বিদ্যুৎনির্ভর কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো প্রশ্নের জন্য কত পানি বা বিদ্যুৎ লাগবে, তা ডেটা সেন্টারের অবস্থান ও কুলিং প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
শুধু ব্যবহার নয়, এআই মডেল প্রশিক্ষণেও বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয়। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, জিপিটি-৩ প্রশিক্ষণে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে প্রায় ৭ লাখ লিটার পানি ব্যবহৃত হয়েছিল। অন্যদিকে মেটার লামা-৩ মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি।
এদিকে, এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন, কারণ এসব স্থাপনা প্রচুর পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
যদিও গুগল, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই ও মেটা আরও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, গবেষকদের মতে এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সম্পদের চাহিদাও নজিরবিহীন হারে বাড়ছে। তাদের ভাষায়, এআইয়ের উত্থান ডেটা সেন্টার শিল্পের সামনে এমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার মুখোমুখি আগে কখনও হতে হয়নি।



