বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

প্রাচীন মিসরীয়দের রূপচর্চার গল্প

cleopatra_2

মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার ভুবনভোলানো রূপের কথা কে না জানে? শুধু ক্লিওপেট্রা যে রূপসচেতন ছিলেন, ব্যাপারটা তেমন নয়। মিসরের রাজা, রানি, দাস-দাসী, রুটি প্রস্তুতকারক, সৈনিক, জেলে থেকে শুরু করে লিপিকার পর্যন্ত সব পেশার মানুষই নিজের যত্ন নিতেন। তাঁরা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য নিয়ে ছিলেন বেশ সচেতন। সুন্দর ত্বক ও চুলের জন্য ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরোয়া প্যাক তৈরি করতেন।

ভালো খাবার খেলে, ভালো দেখায়

প্রাচীন মিসরীয়রা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ভালো খাবার খেলে মানুষকে দেখতেও ভালো লাগে। তার হদিস পাওয়া যায় প্রাচীন হায়ারোগ্লিফিক্সে। জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ২৪০০ অব্দে মৌমাছি পালন শুরু হয়েছিল মিসরে। সে সময়ের মানুষেরা মধু ভালোবাসতেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস লিখেছিলেন, ‘মিসর ছিল নীল নদের একটি উপহার।’ প্রতিবছর এই মহান নদীর পানিতে প্লাবিত হতো তার অববাহিকা। নেমে যাওয়ার সময় সেই পানি রেখে যেত কালো, উর্বর এবং খনিজসমৃদ্ধ পলি। তাতে প্রচুর ডালিম, খেজুর, আঙুর, তরমুজ, রসুন, শসা, গাজর, সেলারি ও মটরশুঁটি জন্মাত। এসব খাবার প্রাচীন মিসরীয়দের শরীরে জোগাত পুষ্টি।

ত্বকের ময়লা দূর করা হতো যেভাবে

Advertisements

ত্বকের মরা কোষ ঝরাতে আমরা যে এক্সফোলিয়েশন ব্যবহার করি, তার আদি রূপ কিন্তু পাওয়া যায় প্রাচীন মিসরে। তাঁরা ত্বকের মরা কোষ ঝরাতে ঝামা ব্যবহার করতেন। অ্যালোভেরার পাতা থেকে রস বের করেও তৈরি করা হতো স্ক্রাব। এ ছাড়া পানির সঙ্গে মেশানো সোডিয়াম কার্বোনেট স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

অবাঞ্ছিত লোম অপসারণে

ঘামের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে মিসরীয়রা শরীরের সব অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ সবচেয়ে ভালো সমাধান বলে ভাবতেন। সে সময় ডিওডোরেন্ট ছিল না। তাই উত্তপ্ত মরুভূমির অসহনীয় তাপমাত্রায় বসবাসের জন্য আরাম পেতে অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ ছিল অপরিহার্য। চুল অপসারণের প্রাকৃতিক পদ্ধতি, সুগারিং, প্রাচীন মিসরীয়রা আবিষ্কার করেছিল বলে মনে করা হয়। তাঁরা মধুর মিশ্রণ দিয়ে তৈরি ঘন প্রলেপ ত্বকে লাগিয়ে তার ওপর মোটা কাপড় বসিয়ে লোমের বিপরীতে টান দিয়ে লোম অপসারণ করতেন।

অ্যালোভেরা এবং অ্যাভোকাডোর জাদু

চোখের নিচে কালো দাগ এবং ফোলা ভাব- কোনোটাই আধুনিক ঘটনা নয়। প্রাচীন মিসরীয়রা সেই সুদূর অতীতেও তাঁদের চোখের নিচে পুষ্টিগুণে ভরপুর অ্যাভোকাডোর টুকরা ব্যবহার করতেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, অ্যাভোকাডো হলো দেবতাদের খাদ্য। পটাশিয়াম, ভিটামিন, চর্বি ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো।

কালোজিরার তেল

পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং প্রদাহরোধী একটি উপাদান। প্রাচীন মিসরে পোকামাকড়ের কামড় এবং র‍্যাশ নিরাময়ে ব্যবহৃত হতো কালোজিরার তেল, এ তথ্য জানা যায়। এটি একজিমা, ব্রণ ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তুতেনখামেনের সমাধিতে এর বীজ খুঁজে পাওয়ার পর প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সুরক্ষা ও নিরাময়ের জন্য এর বিশেষ তাৎপর্যের কথা ইঙ্গিত করেন। এই বিস্ময়কর বীজের ব্যবহার এতটাই বহুমুখী এবং এর এত উপকারিতা রয়েছে যে আপনার বেছে নেওয়া যেকোনো স্কিন কেয়ার পণ্যে এটি রাখলে উপকারই পাবেন।

দুধে গোসল করতেন ক্লিওপেট্রা, আপনি কী করবেন?

মিসরীয় রানি ক্লিওপেট্রা ও নেফারতিতি দুধ ও মধুতে গোসল করতেন! এই মিশ্রণ চমৎকার ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে, যা ত্বক নরম ও মসৃণ করে তোলে। বিশাল রাজ্যপাট আর লোকবল- দুটোই ছিল রানিদের। তাঁদের মতো করে ভাবলে তো আর হবে না। আপনি বিকল্প হিসেবে গরম পানির সঙ্গে নারকেলের দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এর পাশাপাশি যদি আপনি হাইড্রোক্সি এবং ল্যাকটিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজিং পণ্য ব্যবহার করে থাকেন, তাতে আরও উপকার পাবেন। দুধে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে এবং এটি ত্বকের যত্নে ভালো ভূমিকা রাখে। এটি ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে এবং নতুন কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

Advertisements
ক্লিওপেট্রামিসররূপচর্চা