বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

রোদে পোড়া হাতের ট্যান কমাবে যে ৫ ঘরোয়া প্যাক

c5467396-9d16-4c8e-a0cf-0cfce12c60ed

রোদে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, নিয়মিত বাইক চালানো কিংবা হাতের ত্বক সরাসরি সূর্যের আলোতে বেশি সময় থাকলে সেখানে ট্যান বা ত্বকের রঙ কিছুটা গাঢ় হয়ে যেতে পারে। অনেকেই এই সমস্যা কমাতে নানা ধরনের প্রসাধনী, স্ক্রাব বা ফেশিয়াল কিট ব্যবহার করেন। তবে সব ধরনের পণ্য সবার ত্বকে একইভাবে কাজ করে না।

হাতের ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করতে চাইলে কিছু সহজ প্যাক চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে এগুলো ট্যান একেবারে তুলে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার ও রোদ থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখাই ট্যান কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

১. হলুদ ও দুধের প্যাক

হলুদে থাকা কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে দুধ ত্বককে কিছুটা মসৃণ ও আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।

যেভাবে তৈরি করবেন:
একটি পাত্রে ২ চা চামচ হলুদ নিয়ে এর সঙ্গে ২ চা চামচ দুধ মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। পরিষ্কার হাতে প্যাকটি সমানভাবে লাগিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং হাত শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

তবে সংবেদনশীল ত্বকে হলুদ ব্যবহারে জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই পুরো হাতে ব্যবহারের আগে ছোট একটি জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

২. লেবুর রস ও চিনির স্ক্রাব

লেবুতে ভিটামিন সি ও অ্যাসিডিক উপাদান রয়েছে। তবে সরাসরি লেবুর রস ত্বকে লাগালে কারও কারও জ্বালা, শুষ্কতা বা রোদে ত্বকের প্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের স্ক্রাব ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

Advertisements

যেভাবে ব্যবহার করবেন:
এক চা চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চা চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। খুব হালকা হাতে অল্প সময়ের জন্য হাতে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগান।

কাটা, ফাটা বা সংবেদনশীল ত্বকে এই স্ক্রাব ব্যবহার না করাই ভালো। ব্যবহারের পর সরাসরি রোদে না যাওয়াই নিরাপদ।

৩. শসা ও দইয়ের প্যাক

শসায় প্রচুর পানি থাকায় এটি ত্বককে সতেজ ও ঠান্ডা অনুভূতি দিতে পারে। দইও ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ফলে রোদে থাকার পর হাতের ত্বকে অস্বস্তি থাকলে এই প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

যেভাবে তৈরি করবেন:
অর্ধেক শসা কুচি করে ব্লেন্ড করে নিন। এর সঙ্গে এক চা চামচ দই মিশিয়ে ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি দুই হাতে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন।

৪. ওটমিল, মধু ও দইয়ের প্যাক

ওটমিল ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ পরিষ্কার করতে মৃদু স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মধু ত্বককে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে, আর দই ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যেভাবে তৈরি করবেন:
২ চা চামচ ওটমিলের সঙ্গে ১ চা চামচ দই ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার মিশ্রণটি হাতে লাগিয়ে খুব হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

তবে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা উচিত নয়। এতে উল্টো ত্বকে জ্বালা বা কালচে ভাব বাড়তে পারে। সপ্তাহে এক থেকে দুইবারের বেশি স্ক্রাব না করাই ভালো।

৫. চন্দন ও গোলাপজলের প্যাক

চন্দনের গুঁড়া দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গোলাপজল ত্বককে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। রোদে থাকার পর ত্বকে ঠান্ডা অনুভূতি পেতে এই প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

যেভাবে তৈরি করবেন:
২ চা চামচ চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর হাতে পাতলা করে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং পরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ট্যান কমাতে শুধু প্যাক নয়

ঘরোয়া প্যাক ব্যবহারের পাশাপাশি ট্যান আরও বাড়তে না দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার আগে হাতে SPF 30 বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে কয়েক ঘণ্টা পর পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো দরকার। সম্ভব হলে ফুলহাতা পোশাক ব্যবহার করুন এবং সরাসরি রোদে থাকার সময় কমিয়ে দিন।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ট্যান সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না, তাই এক-দুইবার কোনো প্যাক ব্যবহার করলেই তা পুরোপুরি চলে যাবে, এমনটা আশা করা ঠিক নয়। ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ফিরে পেতে সময় লাগতে পারে।

ত্বকে অ্যালার্জি, জ্বালা, র‌্যাশ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

Advertisements
ট্যানপ্যাকরোদ