বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই ছোটবেলায় ?

FB_IMG_1784751373454

একটা সময় ছিল, যখন সুখ মানেই ছিল বিকেলে মাঠে দৌড়ে যাওয়া, নতুন জামার পকেটে কয়েকটা টাকা নিয়ে দোকানে ছোটা, কিংবা টিফিনের টাকা জমিয়ে প্রিয় চিপস কিনে তার ভেতরে থাকা ছোট্ট খেলনাটা খুঁজে বের করা।

আজকের শিশুরা হয়তো ট্যাব, স্মার্টফোন আর ভিডিও গেমের জগতে বড় হচ্ছে। কিন্তু নব্বই দশক কিংবা দুই হাজার সালের শুরুর দিকের শিশুদের শৈশব ছিল অন্যরকম। সেই শৈশবের গন্ধ ছিল কাদামাটিতে, বিকেলের রোদে, আর ছোট ছোট জিনিসে লুকিয়ে থাকা অগাধ আনন্দে।

মনে আছে মেরিডিয়ান চিপস? চিপসের স্বাদের চেয়েও বেশি আকর্ষণ ছিল ভেতরে থাকা ছোট্ট উপহারে। কখনো রঙিন ট্যাজো (Tazo), কখনো ছোট্ট প্লাস্টিকের খেলনা, কখনো সংগ্রহ করার মতো কার্ড। বন্ধুদের সঙ্গে এগুলো বদল করা, কার কাছে কোনটা আছে সেটা নিয়ে গর্ব করা- এসবই ছিল ছোট ছোট সুখের গল্প। আজও যদি কোথাও সেই তাজো চোখে পড়ে, মুহূর্তেই মনে হয় যেন সময়টা কয়েক সেকেন্ডের জন্য পেছনে ফিরে গেছে।

শুধু খেলনা নয়, শৈশব মানেই ছিল এক অদ্ভুত কল্পনার জগৎ। সেই জগতে প্রতিদিন দেখা হতো মীনার সঙ্গে। “আমি পারি”- এই বিশ্বাসটা কত শিশুর মনে গেঁথে দিয়েছিল মীনা। ভাইবোনের সমান অধিকার, পরিচ্ছন্নতা, সাহস আর মানবিকতার মতো বড় বড় শিক্ষাগুলো আমরা পেয়েছিলাম গল্পের ছলে।

Advertisements

এরপর এল সিসিমপুর। হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকু- তারা যেন টেলিভিশনের চরিত্র ছিল না, ছিল আমাদেরই বন্ধু। স্কুল থেকে ফিরে টিভির সামনে বসে থাকা, নতুন পর্ব শুরু হওয়ার অপেক্ষা- এসবই ছিল প্রতিদিনের রুটিন। তখন কার্টুন শুধু বিনোদন ছিল না, ছিল শেখারও একটি আনন্দময় মাধ্যম।

শৈশবের খেলনাগুলোও ছিল কত সহজ! লাটিম, মার্বেল, কাগজের নৌকা, ঘুড়ি, বেলুন, পানিভরা পিস্তল, ছোট্ট রান্নাবাটি সেট, খেলনা গাড়ি কিংবা প্লাস্টিকের সৈনিক। দাম ছিল অল্প, কিন্তু আনন্দ ছিল অমূল্য। কোনো খেলনার ব্যাটারি লাগত না, ইন্টারনেট লাগত না। লাগত শুধু কয়েকজন বন্ধু আর একটু খোলা জায়গা।

বিকেল মানেই ছিল গলিতে হৈচৈ। কানামাছি, লুকোচুরি, বউচি, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা কিংবা সাতচাড়া- এই খেলাগুলো শুধু শরীরচর্চাই নয়, বন্ধুত্ব, দলগত কাজ আর হার-জিত মেনে নেওয়ার শিক্ষাও দিয়েছে।

আর ছিল ঈদের আনন্দ। নতুন জামার পাশাপাশি নতুন খেলনা পাওয়ার অপেক্ষা। রঙিন বেলুন, বাঁশি, খেলনা বন্দুক কিংবা পুতুল- সবকিছুর মধ্যেই ছিল এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস। তখন আনন্দের জন্য খুব বেশি কিছুর দরকার হতো না।

আজ প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, বিনোদনের পরিধি বাড়িয়েছে। কিন্তু সেই ছোট্ট চিপসের প্যাকেট খুলে খেলনা পাওয়ার উত্তেজনা, বিকেলে বন্ধুদের ডাক, কিংবা টিভির সামনে বসে মীনা বা সিসিমপুর দেখার যে সরল আনন্দ- সেটার বিকল্প হয়তো কখনোই হবে না।

বড় হওয়ার ব্যস্ততায় আমরা হয়তো অনেক কিছুই পেয়েছি। কিন্তু কোথাও না কোথাও হারিয়ে ফেলেছি সেই অবুঝ বিস্ময়, অল্পতেই খুশি হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। তাই মাঝেমধ্যে পুরোনো কোনো খেলনা, পরিচিত কোনো কার্টুনের গান, কিংবা মেরিডিয়ান চিপসের সঙ্গে পাওয়া সেই ছোট্ট তাজোর কথা মনে পড়লে বুকের ভেতর হালকা একটা টান লাগে।

হয়তো এ কারণেই নস্টালজিয়া এত সুন্দর। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- সবচেয়ে দামি স্মৃতিগুলোর কোনো দাম ছিল না। ছিল শুধু ভালোবাসা, সরলতা আর এক টুকরো নির্ভেজাল শৈশব।

Advertisements
মীনাশৈশবসিসিমপুর