বারবার একই মগই কেন হাতে তুলে নেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

ঘরে অনেক কাপ–মগ থাকলেও চা বা কফি খাওয়ার সময় অজান্তেই কি বারবার একই মগ হাতে তুলে নেন? সেটি হয়তো সবচেয়ে দামি নয়, সবচেয়ে সুন্দরও নয়। কোথাও সামান্য চিড় ধরেছে, রংও কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। তবু সেটিই যেন সবচেয়ে আপন লাগে। এর পেছনে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো জিনিস একবার নিজের হয়ে গেলে মানুষ সেটিকে আগের তুলনায় বেশি মূল্যবান বলে মনে করতে শুরু করে। ১৯৯০ সালে এক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে একটি কফির মগ তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে যাঁদের কাছে মগটি ছিল, তাঁরা সেটি ছাড়তে অনেক বেশি মূল্য দাবি করেন। অন্যদিকে যাঁদের কাছে মগটি ছিল না, তাঁরা একই মগ কিনতে তুলনামূলক কম দাম দিতে রাজি ছিলেন। গবেষণাটি দেখায়, কোনো বস্তু নিজের হয়ে গেলেই তার প্রতি মানুষের মূল্যবোধ বেড়ে যায়।
এর পাশাপাশি কাজ করে আরেকটি স্বাভাবিক মানসিক প্রবণতা। কোনো মানুষ, বস্তু বা জিনিসের সঙ্গে যত বেশি পরিচিতি তৈরি হয়, ততই তার প্রতি টান বাড়তে থাকে। তাই প্রতিদিন একই মগে চা বা কফি পান করতে করতে সেটিই সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও পরিচিত মনে হয়। এটি অন্য মগের চেয়ে ভালো বলেই নয়, বরং দীর্ঘদিনের ব্যবহারে তার সঙ্গে একটি মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।
এই দুটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় একটি সাধারণ মগ ধীরে ধীরে বিশেষ হয়ে ওঠে। প্রথমে নিজের হওয়ার কারণে তার মূল্য বেড়ে যায়, এরপর প্রতিদিনের ব্যবহারে তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় অভ্যাস, স্বস্তি ও অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে মগটির দাগ, চিড় বা ফিকে হয়ে যাওয়া রং আর ত্রুটি বলে মনে হয় না। বরং সেগুলোই হয়ে ওঠে তার আলাদা পরিচয়।
এ কারণেই নতুন কোনো মগ ব্যবহার করতে গেলে অনেকের অস্বস্তি লাগে। নতুন মগটির সঙ্গে এখনো কোনো স্মৃতি বা পরিচিতি তৈরি হয়নি। তাই দেখতে যত আকর্ষণীয়ই হোক, সেটি পুরোনো প্রিয় মগের মতো আপন লাগে না।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি অতিরিক্ত আবেগ নয়। বরং মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই পরিচিত এবং নিজের বলে মনে হওয়া জিনিসের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই প্রতিদিন সকালে একই মগ হাতে তুলে নেওয়ার অভ্যাসের পেছনে রয়েছে মানুষের মনস্তত্ত্বের সহজ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।



