বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

একা খাওয়া আর একাকীত্ব নয়, নতুন জীবনধারার নাম ‘সোলো ডাইনিং’

images (81)

একসময় রেস্তোরাঁয় একা বসে খাওয়াকে অনেকেই অস্বস্তিকর বা একাকীত্বের প্রতীক হিসেবে দেখতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এখন সোলো ডাইনিং’—অর্থাৎ একা রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার খাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনেকের কাছে এটি শুধু খাওয়ার বিষয় নয়; বরং ব্যস্ত জীবনের মাঝখানে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া এবং খাবারের স্বাদ পুরোপুরি উপভোগ করার একটি উপায় হয়ে উঠেছে।

রেস্তোরাঁ বুকিং প্ল্যাটফর্ম ওপেনটেবিল (OpenTable)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে একা খাওয়ার উদ্দেশ্যে টেবিল বুকিংয়ের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, একা বাইরে খাওয়া এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং অনেকের কাছে এটি একটি নতুন লাইফস্টাইল ট্রেন্ডে পরিণত হচ্ছে।

প্রথম দেখায় এই প্রবণতাকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা একাকীত্বের সংকটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে। তবে যারা নিয়মিত একা রেস্তোরাঁয় যান, তাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলছে। তাদের মতে, সোলো ডাইনিং মানে একাকীত্ব নয়; বরং নিজের জন্য সময় বের করা, ব্যস্ততার গতি কিছুটা কমিয়ে আনা এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে সচেতনভাবে উপভোগ করার একটি সুযোগ।

ওয়াশিংটন ডিসির ৩৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ভেরোনিকা সেলজলার নিয়মিত নিজেকে এমন ‘সোলো ডেট’ উপহার দেন। তিনি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ফুড ক্রিটিক এলাজার সন্ট্যাগকে জানান, একা রেস্তোরাঁয় গেলে তিনি সাধারণত বারের পাশে বসেন। সঙ্গে রাখেন একটি বই বা স্কেচপ্যাড। ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলেন এবং শেফদের রান্নার পুরো প্রক্রিয়া মনোযোগ দিয়ে দেখেন।

Advertisements

তার ভাষায়, আমি মনে করি একা থাকলে অনেক ধীরস্থিরভাবে খেতে পারি। কারও সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয় না, তাই খাবারের প্রতিটি স্বাদ, ঘ্রাণ ও উপস্থাপনাকে আরও গভীরভাবে উপভোগ করতে পারি।’

ওপেনটেবিলের তথ্য অনুযায়ী, একা খেতে আসা গ্রাহকেরা গড়ে ৯৪ মার্কিন ডলার ব্যয় করেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, সব ধরনের দলগত বুকিংয়ের ক্ষেত্রে মাথাপিছু গড় ব্যয় প্রায় ৬০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ একা খেতে আসা ব্যক্তিরা শুধু সময়ই বেশি উপভোগ করেন না, খাবারের পেছনেও তুলনামূলক বেশি ব্যয় করেন।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, বৃহস্পতিবার একা খাওয়ার বুকিং সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এদিন সোলো বুকিংয়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ শতাংশ। যদিও বিকেল ৩টার দিকে একা খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, তবুও সামগ্রিকভাবে সন্ধ্যা ৬টার সময় সবচেয়ে বেশি বুকিং হয়।

এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য ওপেনটেবিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর অনলাইন বুকিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণায় ২০২৪ সালের ২ জুন থেকে ২০২৫ সালের ১ জুলাই এবং ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের বুকিং, মাথাপিছু ব্যয়, বুকিংয়ের দিন ও সময়সহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

একা রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে বসার জন্য কিছুটা আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। অনেকেই শুরুতে ভাবেন, অন্যরা হয়তো তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবে বা অদ্ভুতভাবে দেখবে। তবে বাস্তবে এমনটি খুব কমই ঘটে। বরং অধিকাংশ মানুষ নিজের মতো সময় কাটানো একজন মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন।

মাঝে মাঝে একা সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক হতে পারে। এটি মানুষকে নিজের চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নেওয়ার, চাপ কমানোর এবং বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করার সুযোগ দেয়। তাই অনেকের কাছেই সোলো ডাইনিং এখন শুধু একটি খাবারের অভিজ্ঞতা নয়; এটি আত্মযত্ন (Self-care) এবং মানসিক সুস্থতার একটি অংশ।

একসময় যে অভ্যাসকে একাকীত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো, সেটিই এখন অনেকের কাছে স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং সচেতন জীবনযাপনের নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সোলো ডাইনিং ধীরে ধীরে একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও জীবনধারাভিত্তিক ট্রেন্ডে পরিণত হচ্ছে।

Advertisements
একাকীত্বজীবনধারাডাইনিংসোলো