কৃষিতে নারীর অবদান, বিনিময়ে মিলছে কীটনাশকের বি’ষে নীরবে অসুস্থ নারী কৃষক

দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নারী কৃষকেরা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবে নানামুখী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। অথচ নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

সম্প্রতি ১১ জেলায় পরিচালিত একটি জরিপ ও যশোরে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া নারী কৃষকদের ৮৪ শতাংশই কীটনাশকের সংস্পর্শে এসে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ১০৯ জন নারী কৃষকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ত্বকের প্রদাহ ও চুলকানি। এছাড়া শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যার তথ্য উঠে এসেছে। অনেকেই একাধিক রোগে আক্রান্ত হলেও সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়গুলো প্রকাশ করেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা পল্লিচিকিৎসক বা স্থানীয় ওষুধের দোকানের ওপর নির্ভরশীল।
উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকারি নীতিমালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী কৃষকের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও জরিপে অংশ নেওয়া একজন নারীও এমন কোনো প্রশিক্ষণ পাননি। এটি নারী কৃষকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, কৃষিখাতে কর্মরত জনবলের প্রায় ২৬ শতাংশই নারী। তারা শুধু ফসল সংগ্রহ নয়, পরাগায়ন, কীটনাশক ও সারের পাত্র পরিষ্কার করা এবং ঘরে এসব সংরক্ষণের মতো কাজেও যুক্ত থাকেন। ফলে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ এড়ানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কীটনাশকের অনিরাপদ ব্যবহার তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুতন্ত্র, ত্বক, শ্বাসতন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যচক্রে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতিও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী কৃষকদের জন্য নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কঠোর নজরদারি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি কীটনাশক ব্যবহারের নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী কৃষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।



