Skip to content

২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারীরা কর্মোদ্যোগী হোক

সময়ের সঙ্গে যোগ্যতা-দক্ষতা সর্বোপরি জীবনবোধের পরিবর্তন ঘটে। একসময় মানুষের জীবনে যা চরমতম সত্য দিন গড়ালেই তাই হয়ে পড়তে পারে মিথ্যা। কিন্তু জীবনকে তো চালিয়ে নিতেই হয়। দুঃখ-কষ্ট যতই নীরব ঘাতক হয়ে আসুক, মানুষকে নতুনভাবে ভাঙতে হয়, গড়তে হয়। তবে এই ভাঙা-গড়ার খেলায় নারীরা তখনই স্বাভাবিক থাকবে, যখন তারা কর্মোদ্যোগী হবে! নারীর অলস জীবনযাপন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ অলস মস্তিষ্কই ধ্বংসের মূল। এর ফলে মানসিক পীড়া থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যহানিও হতে পারে! নারীকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাই জীবনের সন্ধানে কাজ করে যেতে হবে।

বর্তমানে আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। সবার জীবনই কমবেশি বিভিন্ন রকম প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে পার করতে হচ্ছে। মানুষ যেমন ভিন্ন, তেমনি তাদের সমস্যাও ভিন্ন। কিন্তু যান্ত্রিক জীবনে আমাদের মানসিকতাও বিভিন্নভাবে আটকে গেছে যান্ত্রিকতার মারপ্যাচে! একমাত্র কর্মোদ্যমই আমাদের সজীব-প্রাণবন্ত রাখতে পারে। নারীরা ঘরবন্দি থাকলে জীবনকে আরও জটিল করে তুলবে। একজন পুরুষ সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে। ফলে মানসিক চাপ, জীবনের জটিলতা খানিকটা হলেও তারা ভুলে থাকতে পারেন। কিছুটা হলেও ঘরের বাইরে গেলে চাপমুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় তাদের। কিন্তু নারীরা বদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। ফলে তাদের জীবন জটিলতা অনেকটা একঘেয়ে-ত্রুটিপূর্ণ হয়ে ওঠে! কিন্তু নারীদের এই মানসিকতার পরিহার করে কর্মোদ্যোগী হতে হবে।

জীবনকে পরিচালনা করতে শেখাবে। এমনকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শেখাবে। তাই নারীর জন্য অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হওয়া খুব জরুরি। আর এজন্য অবশ্যই নারীরা কর্মোদ্যোগী হয়ে উঠুন।

বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নারীরা নিজ যোগ্যতা-দক্ষতা অনুযায়ী কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে নিতেও পারবেন। তাই পারিবারিক-সাংসারিক ও একঘেয়ে জীবনের পরিত্রাণ করতে নারীদের কর্মোদ্যোগী হতে হবে। বর্তমানে নারীদের জীবনের নানামুখী সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরসঙ্গে দেখা দিচ্ছে হতাশা-দ্বন্দ্ব। কিন্তু কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে হতাশা-স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট নিয়ে ভাবার ফুরসতই মিলবে না। ফলে নারীর জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর।

বর্তমানে শুধু যে ঘরবন্দি নারীর জন্যই কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার এমন নয়; বরং যেকোনো নারীর জন্যই কর্মোদ্যোগী হওয়া জরুরি। কারণ জটিলতাকে দ্বিগুণ করে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। তাই নারীরা যদি সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে সুস্থ সুন্দর করে গড়ে তুলতে চান, তবে অবশ্যই নিজ নিজ জায়গা থেকে যে ধরনের কাজ করা সম্ভব সেই ধরনের কাজে যুক্ত করুন। দরকার হলে ছোটখাটো ব্যবসাও করতে পারেন নারীরা। সমালোচনা থাকবেই। সেটাকে যতক্ষণ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে না পারবেন, ততক্ষণ আপনি নিজে মানসিকভাবে স্থির হতে পারবেন না। একটি কাজের সুযোগ আপনাকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে। জীবনকে পরিচালনা করতে শেখাবে। এমনকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শেখাবে। তাই নারীর জন্য অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হওয়া খুব জরুরি। আর এজন্য অবশ্যই নারীরা কর্মোদ্যোগী হয়ে উঠুন।

অনন্যা/এআই