Skip to content

২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল মাধ্যমে যৌন-হয়রানির শিকার নারী

ডিজিটাল মাধ্যমের অভ্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়ে চলেছে নানারকম জটিলতা। আর এই জটিলতার প্রধান শিকার নারীরা। সব বয়সী নারীই ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে যৌন-হয়রানির শিকার হচ্ছে। নারীর অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে নারীদের প্রতি ডিজিটাল হয়রানির ঘটনা বহুল পরিমাণে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ম্যসেঞ্জার, টুইটার, লিংকডইন, টিকটক, ডিজিটাল শিক্ষা-মাধ্যম (জুম, মিট, টিম) প্রভৃতি মাধ্যমে নারীরা বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও প্রচার, শরীর, পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি, ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, শারীরিক মিলন বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করছেন কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গ!

বিশ্বাস-সরলতার বশে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কোনোকিছু অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি স্বামী, প্রেমিক থেকেও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ডিজিটাল মাধ্যমে নারীরা এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কখনো নিজের কিছু ভুল পদক্ষেপের জন্য আবার কখনো অতি সরল বিশ্বাসের কারণে। সাবেক প্রেমিক, স্বামী ও হ্যাকাররা নারীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে অনলাইনে। কিছু অসাধু চক্র নারীকে প্রথমে প্রেম নামক জাল বিছিয়ে তার কাছে বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠেছেন। একসময় ঘনিষ্ঠতা সুযোগে বিশ্বাস, আস্থাকে কেন্দ্র করে অনেক নারী ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে কোনো কারণে সম্পর্কে ভাঙন ধরলে নারীদের কথিত প্রেমিকের হুমকির শিকার হতে হয়। আবার কেউ কেউ জাল বিছিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। না দিতে পারলে বা প্রস্তাবে রাজি নাহলে নারীদের ছবি বা নানারকম বিভ্রান্তিকর তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ফলে অনেক নারী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। কিন্তু নারীদের সচেতনতা এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ডিজিটাল মাধ্যম যতটা সামাজিকভাবে মানুষকে একত্রে করছে, ঠিক ততটা বিচ্ছিন্নও করছে। ভরসা-বিশ্বাসের নাম করে নারীরা ফাঁদে পা দিচ্ছে অসাধু ব্যক্তিদের। যাদের প্রধান টার্গেট থাকে নারীরা। গণমাধ্যমের বরাতে মাঝে মাঝেই উঠে আসে এ ধরনের প্রতারণার খবর। প্রেমকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনা বেশি ঘটে। এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হ্যাকারদের উৎপাত। নারীদের ছবি ব্যবহার করে ফেক আইডি খুলে যৌন হয়রানি করা থেকেও বিরত থাকছে না অসাধু ব্যক্তিরা।

কিছু বিষয় মেনে চললে নারীরা কিছুটা হলেও এ ধরনের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন আশাকরি। ডিজিটাল মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করতে নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সাইবার অপরাধের শিকার নারীরা যেন সহজে তাদের অভিযোগ জানাতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এ নারীরা সহজেই তাদের সমস্যার সমাধান পাচ্ছে।

বিশ্বাস-সরলতার বশে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কোনোকিছু অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি স্বামী, প্রেমিক থেকেও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্পর্কের পরিণতি যাই হোক, তবু নারীদের সচেতন থাকা জরুরি। যেন পরবর্তী সময়ে কোনো রকম সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকৃত পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। মাসান্তরে বা দুই মাস পর পর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে। তাতে করে হ্যাকারদের থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যাবে।

বাজে মন্তব্যকারী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনাতে হবে। অনেক নারী এ ধরনের হয়রানির শিকার হয়েও সামাজিক নানা কারণে আইনের আশ্রয় নেয় না। তবে, বর্তমানে আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা আছে। সাইবার অপরাধের শিকার নারীরা যেন সহজে তাদের অভিযোগ জানাতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এ নারীরা সহজেই তাদের সমস্যার সমাধান পাচ্ছে।

এই সেবায় নিয়োজিত সব পুলিশও নারী হওয়ায় নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে মাথায় রেখেই নারীদের সাহায্য করা হয়। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে নারীরা যৌন-হয়রানির শিকার হলে সমস্যা সমাধানে আইনি সহায়তা গ্রহণ করা আবশ্যক। তাই নারীদের সচেতন হতে হবে। যেন সমস্যা সৃষ্টি না হয় আর যদি সমস্যা তৈরি হয়েই যায়, তবে আইনের সাহায্য গ্রহণ করে এ ধরনের সমস্যার পরিত্রাণ ঘটাতে হবে। নতুবা অসাধু ব্যক্তিদের অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যাবে!

অনন্যা/এ আই