টিউশনির টাকা নিয়ে ক্ষোভ, শিক্ষিকাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা নামে এক স্কুলশিক্ষকের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রীর মা প্রিয়া বেগমের বিরুদ্ধে। ঘরের দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর ঘটনায় গুরুতর আহত ওই শিক্ষিকা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি গত তিন মাস ধরে প্রিয়ার সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। এজন্য প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। কয়েকদিন আগে বকেয়া টিউশনির টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ।
ঘটনার দিন সকালে পড়ানো শেষ করে বের হওয়ার সময় প্রিয়া ঘরের দরজায় দুইটি ছিটকিনি লাগিয়ে সিঁথির ওপর দা দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। দরজা বন্ধ থাকায় পালাতে পারেননি তিনি। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, সিঁথির মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে এবং সেখানে ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। তার সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি জানান, প্রথম কোপের পর দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করলেও সেদিন অতিরিক্ত একটি ছিটকিনি লাগানো থাকায় বের হতে পারেননি। তার দাবি, হামলার সময় প্রিয়া তার গলায়, হাতে ও কানে থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার দেখে সেগুলো দিতে বলছিলেন।
মামলার বাদী শিশু মিয়ার অভিযোগ, শিক্ষিকাকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এখন অভিযুক্তকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে অপরাধকে হালকা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, টিউশনির টাকার বিরোধ ছাড়াও হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



