বন্যার মধ্যে আশ্রয়ের পথে নৌকাডুবি, বাবার সামনে ভেসে গেল দুই মেয়ে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যার মধ্যে তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন এক বাবা। কিন্তু পথে প্রবল স্রোতে নৌকাটি ডুবে গেলে পানিতে ভেসে যায় দুই মেয়ে। এ ঘটনায় হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অপর শিশু জেরিন আক্তার (৮)কে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করলেও তৃতীয় মেয়েকে শক্ত করে ধরে রাখতে সক্ষম হন বাবা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ঝর্ণা ওই এলাকার আবদুল জলিলের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের কারণে বরইতলী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিন মেয়েকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নৌকায় করে নিকটাত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন আবদুল জলিল। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর তীব্র স্রোতের মুখে নৌকাটি ডুবে যায়। মুহূর্তেই পানিতে ভেসে যায় দুই মেয়ে ঝর্ণা ও জেরিন। এ সময় ছোট মেয়ে সাওরিনকে শক্ত হাতে ধরে রাখতে সক্ষম হন বাবা।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। একপর্যায়ে জেরিন আক্তারকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঝর্ণার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরে বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এবং ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। ইউএনওর নির্দেশে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় টানা প্রায় চার ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালান। পরে পানির নিচে ভেসে যাওয়া অবস্থায় ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত দুই শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।



