বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

বর্ষায় দই খেলে মানতে হবে যে সতর্কতাগুলো

1658239370_new-project-2022-07-19t193202-463

বর্ষা এলেই অনেক পরিবারে দই খাওয়ার বিষয়ে নানা সতর্কতা শোনা যায়। বিশেষ করে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা এই সময়ে দই খেতে নিরুৎসাহিত করেন। তবে প্রশ্ন হলো, দই যদি এত পুষ্টিকর হয়, তাহলে বর্ষাকালে কেন তা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, দই সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং সঠিক সময়ে, পরিমিত পরিমাণে এবং উপযুক্ত উপায়ে খেলে এর পুষ্টিগুণ থেকে উপকার পাওয়া যায়।

দই ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ফসফরাস এবং উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ভালো উৎস। এসব উপাদান হজমশক্তি উন্নত করতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সহায়তা করে। তাই পুষ্টিবিদরা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় দই রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তবে আয়ুর্বেদ মতে, বর্ষাকালে শরীরের হজমক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে। এ সময় ভারী বা ধীরে হজম হয় এমন খাবার খেলে অনেকের গ্যাস, পেট ফাঁপা, অম্বল কিংবা বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দইও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ধীরে হজম হতে পারে, তাই এই মৌসুমে অতিরিক্ত দই খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাতের বেলা সাধারণ দই খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ, এটি কিছু মানুষের শরীরে কফের প্রবণতা বাড়াতে পারে। ফলে গলা ব্যথা, সর্দি, শ্লেষ্মা জমা বা গলায় অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দই খেতে চাইলে দুপুর বা দিনের অন্য কোনো সময় খাওয়াই বেশি উপযোগী।

Advertisements

বর্ষাকালে দই খাওয়ার সঠিক উপায়

বর্ষায় দই পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে খাওয়ার সময় কিছু বিষয় মেনে চললে হজমে সুবিধা হয়। দইয়ের সঙ্গে ভাজা জিরার গুঁড়া, কালো লবণ বা সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে হজম সহজ হতে পারে।

ফ্রিজ থেকে বের করেই ঠান্ডা দই খাওয়া ঠিক নয়। কিছুক্ষণ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে তারপর খাওয়াই ভালো। আয়ুর্বেদে দইয়ের সঙ্গে সামান্য ঘি, চিনি বা আমলকী মিশিয়ে খাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা কিছু ক্ষেত্রে উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

যাদের বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন

যাদের আগে থেকেই গ্যাস, অম্বল, বদহজম, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের বর্ষাকালে দই খাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। এ সময় হালকা, সহজপাচ্য ও সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

দই খাওয়ার পর যদি বারবার পেটের অস্বস্তি, গ্যাস, ডায়রিয়া, অ্যালার্জির লক্ষণ বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বর্ষাকালে দই খাওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে সঠিক সময়ে, পরিমিত পরিমাণে এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সঠিক নিয়ম মেনে দই খেলে বর্ষাতেও এর পুষ্টিগুণ উপভোগ করা সম্ভব।

Advertisements
দইবর্ষাসতর্কতা