৮৩ বছর বয়সে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন

অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট বয়স পেরিয়ে গেলে নতুন করে স্বপ্ন দেখা বা পড়াশোনা শুরু করার আর সুযোগ থাকে না। কিন্তু মিশরের ৮৩ বছর বয়সী আমাল ইসমাইল সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। জীবনের অসংখ্য বাধা, দীর্ঘ বিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ক্যানসারের মতো কঠিন রোগকে জয় করে তিনি অর্জন করেছেন পিএইচডি ডিগ্রি। তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং অধ্যবসায় ও দৃঢ় মানসিকতার এক অনন্য উদাহরণ।
সম্প্রতি মিশরের মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে নিজের গবেষণাপত্র সফলভাবে উপস্থাপন করে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন আমাল। গবেষণার মান ও সমাজে এর গুরুত্ব বিবেচনায় পরীক্ষকরা তাকে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে ডিগ্রি প্রদান করেন। পাশাপাশি গবেষণাটি প্রকাশ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিময়ের জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।

আমালের গবেষণার বিষয় ছিল সক্রিয় বার্ধক্য এবং সমাজের বিভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে এর সম্পর্ক। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি দাকাহলিয়া গভর্নরেটের বিভিন্ন গ্রামের ২০ জন প্রবীণ নারীর জীবনযাপন, সামাজিক অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করেন। তার বিশ্বাস, বয়স বাড়লেও মানুষের সক্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজ—উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই সাফল্যের পেছনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ছোটবেলায় বাবার উৎসাহে একটি ফরাসি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও মাত্র ১৪ বছর বয়সে থাইরয়েডের জটিল রোগে আক্রান্ত হন। একই সময়ে বিয়ে হওয়ায় পড়াশোনা থেমে যায়। এরপর সংসার, সন্তান ও পারিবারিক দায়িত্বই হয়ে ওঠে তার জীবনের প্রধান অধ্যায়।
অনেক বছর পর ৩৮ বছর বয়সে আবার পড়াশোনায় ফেরার চেষ্টা করেন তিনি এবং মাধ্যমিকের প্রাথমিক স্তরের সনদ অর্জন করেন। কিন্তু পারিবারিক কারণে আবারও দীর্ঘ বিরতি নিতে হয়। এই সময় তিনি ক্যানসারের সঙ্গেও লড়াই করেন এবং শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

২০১১ সালে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের উৎসাহে আবারও বই হাতে নেন আমাল। ৭০ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে ৮৩ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে অবশেষে ৮৩ বছর বয়সে অর্জন করেন বহুদিনের স্বপ্নের পিএইচডি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাষ্য, আমাল ইসমাইল শুধু একজন গবেষক নন; তিনি প্রমাণ করেছেন, শেখার কোনো বয়স নেই। ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য এবং লক্ষ্য অর্জনের সংকল্প থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন শুরু করা সম্ভব।
আমালের গল্প আজ শুধু মিশরের নয়, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা। কারণ তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, স্বপ্ন কখনো বয়সের কাছে হার মানে না।



