বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
নারী

সু চির জীবিত থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

images (11)

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি এখনো জীবিত আছেন—এমন স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে দেশটির সামরিক জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার ছোট ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বলেছেন, সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জান্তা যে দাবি করেছে, তার পক্ষে পরিবার এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি।

লন্ডন থেকে কিয়োদো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম অ্যারিস বলেন, তার বিশ্বাস, নোবেলজয়ী এই নেত্রীকে এখনো নেপিডোর কারাগারেই রাখা হয়েছে। পরিবারের কাছে সু চির স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে অল্প তথ্য পৌঁছেছে, তাতে জানা গেছে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।

জান্তা সরকার গত এপ্রিলে ঘোষণা দেয়, ৮১ বছর বয়সী সু চির কারাদণ্ড কমিয়ে প্রায় ১৭ বছর করা হয়েছে এবং তাকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। তবে কিম অ্যারিস বলেন, এই দাবির সত্যতা নিয়ে তার গভীর সন্দেহ রয়েছে।

তিনি জানান, তার মা হৃদ্‌রোগ, অস্টিওপোরোসিসসহ বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। দুই বছরেরও বেশি আগে পাওয়া একটি চিঠির পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি।

Advertisements

কিম অ্যারিসের ভাষ্য, যে কারাগারে সু চিকে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানে অত্যন্ত কঠিন ও অমানবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। মুক্তি পাওয়া এক সাবেক বন্দীর কাছ থেকে তিনি এ তথ্য জেনেছেন।

১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়, যদিও তার সমর্থক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মায়ের মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়েছেন কিম অ্যারিস। সম্প্রতি সু চির ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি স্কেটবোর্ডে ৮১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন এবং ‘এইটি ওয়ান ফর এইটি ওয়ান’ নামে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা চালান। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে সু চির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং জান্তা সরকারের কাছে তাঁর জীবিত থাকার স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানান।

মায়ের মুক্তির দাবিতে জাপানসহ বিভিন্ন দেশে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন কিম অ্যারিস। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে যেন কোনোভাবেই যুদ্ধবিমান পরিচালনার জ্বালানি পৌঁছাতে না পারে। তার মতে, এতে বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা কমানো সম্ভব হবে।

১৯৮৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অং সান সু চি তার জীবনের প্রায় ২০ বছর কারাবন্দী বা গৃহবন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন। বিশেষ করে গত পাঁচ বছরে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তার পরিবারও নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

Advertisements
জান্তানেত্রীমিয়ানমারসু চি