কিউআর কোড স্ক্যানে মিলছে না তথ্য, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ

আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষার ঠিক আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কিউআর কোডে তথ্যবিভ্রাট দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন কার্ডে তাদের নিজস্ব নাম, ছবি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে লেখা থাকলেও কিউআর কোড স্ক্যান করলে অন্য শিক্ষার্থীর নাম, রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে অনেকের প্রবেশপত্রের কিউআর কোডও স্ক্যান করা যাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
সৈয়দপুরের একটি সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘কলেজ থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে দেখি প্রবেশপত্রের কিউআর কোড স্ক্যান করা যাচ্ছে না। আর রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করতেই স্ক্রিনে অন্য এক ছেলের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভেসে ওঠে। অথচ কার্ডের ওপরে আমার নাম, ছবি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। পরীক্ষার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এখন এই ভুল নিয়ে আমি খুবই আতঙ্কিত। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না’।
রাজিয়ার মতো সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আরও বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে এমন প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।
জানা গেছে, সারা দেশের মতো সৈয়দপুরেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে বোর্ডের অনলাইন পোর্টাল থেকে সরবরাহ করা অনেক রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কিউআর কোড মোবাইল ফোনে স্ক্যান করলে পরীক্ষার্থীদের নিজের তথ্যের পরিবর্তে অন্য শিক্ষার্থীর নাম, রোল বা অন্যান্য তথ্য দেখা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, এই তথ্যগত অসংগতি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশপত্র যাচাই, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, রেজিস্ট্রেশন তথ্য সংরক্ষণ, ফল প্রকাশ কিংবা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পাওয়ার পর কৌতূহলবশত কিউআর কোড স্ক্যান করি। কিন্তু সেখানে আমার তথ্যের বদলে অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রের তথ্য দেখতে পাই’।
অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমার মেয়েকে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে। তার রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখি অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীর তথ্য দেখাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন’।
এ বিষয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দীন বলেন, ‘অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং কিউআর কোডের তথ্যবিভ্রাট ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে’।
তিনি আরও জানান, যেসব পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কিউআর কোডে এখনও ভুল তথ্য দেখা যাচ্ছে, তারা যেন বোর্ডের পোর্টাল থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড পুনরায় ডাউনলোড করে নেয়। নতুন করে ডাউনলোড করলে সঠিক তথ্য দেখা যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।



