জাহানারা ইমামকে নিয়ে রাকসু নেতার কটূক্তি, পদ স্থগিতের দাবি

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাংস্কৃতিক–বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান। শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণ দিবস’ বলে উল্লেখ করেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জায়িদ হাসান ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে রাকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন। তার ছাত্রশিবিরে কোনো সাংগঠনিক পদ রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
পোস্টের ক্যাপশনে জায়িদ লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণ দিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’ পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ফটোকার্ডে জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত গণ-আদালতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এ মন্তব্য ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাকসুর সাংস্কৃতিক–বিষয়ক সম্পাদক পদ স্থগিতের দাবি জানান।
সমালোচনার মুখে পরে আরেকটি পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জায়িদ হাসান। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো শহীদের মাকে নিয়ে কটূক্তি করেননি। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। শহীদের মা পরিচয় কারও খুনি পরিচয় মুছে দিতে পারে না।’
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী বলেন, শহীদ জননীকে নিয়ে এমন মন্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবমাননা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান রাকসুর সভাপতির কাছে জায়িদ হাসানের পদ বাতিলের দাবি জানান।

জাহানারা ইমাম একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তার ছেলে শাফী ইমাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তার ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত ও সম্মানিত।



