স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তিতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নতুন স্পাইডার-ম্যান

টম হল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত চতুর্থ স্পাইডার-ম্যান সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ কেবল গল্পের কারণে নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। সিনেমাটি বিশ্বের প্রথম প্রজেক্টগুলোর একটি, যা শুরু থেকেই স্ক্রিন-এক্স ফরম্যাটকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। ফলে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।
স্ক্রিন-এক্স হলো আধুনিক প্রজেকশন প্রযুক্তি, যেখানে সাধারণ হলে শুধু সামনের পর্দায় সিনেমা দেখা গেলেও এই ফরম্যাটে হলের দুই পাশের দেয়ালেও দৃশ্য সম্প্রসারিত হয়। এতে দর্শকরা প্রায় ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ পান, যা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলে।
নতুন স্পাইডার-ম্যান সিনেমায় যখন চরিত্রটি আকাশচুম্বী ভবনের মাঝ দিয়ে জাল ছুড়ে উড়বে, তখন হলের দুই পাশের স্ক্রিনেও বিস্তৃত শহরের দৃশ্য দেখা যাবে। এতে দর্শকদের মনে হবে, তারা যেন সরাসরি স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে একই জগতে অবস্থান করছেন।
এর আগে কিছু বড় বাজেটের হলিউড সিনেমায় স্ক্রিন-এক্স ব্যবহার করা হলেও সেগুলো সাধারণত পোস্ট-প্রোডাকশনে ভিজ্যুয়াল যোগ করে তৈরি করা হতো। কিন্তু ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ নির্মিত হয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা পদ্ধতিতে—মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপে সরাসরি শুটিংয়ের মাধ্যমে।
স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তি তৈরি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান সিজে ফোর ডিপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জুন ব্যাং বলেন, মার্ভেল এবং পরিচালক ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যাতে গল্পের মূল ভাব অক্ষুণ্ণ থাকে।
পরিচালক ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটন জানান, শুটিং সেটেই বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে তিন দিকের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে, যা সিনেমার ইতিহাসে একটি নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করবে।
মার্ভেল ও সনি সাধারণত আইম্যাক্স ফরম্যাটে বড় সিনেমা মুক্তি দিলেও এবার ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে স্ক্রিন-এক্সকে বেছে নিতে হয়েছে নির্মাতাদের। ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তির কারণে আইম্যাক্স স্ক্রিনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া চুক্তি থাকায় স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে সেই সুযোগ পায়নি।
তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে সুযোগে রূপান্তর করে নির্মাতারা স্ক্রিন-এক্সকেই কেন্দ্র করে সিনেমাটির অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে এই নতুন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।



