বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ডাউনিং স্ট্রিটের একমাত্র স্থায়ী মুখ বিড়াল ‘ল্যারি’

1689747370_4

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে গত এক দশকে দেখা গেছে ধারাবাহিক অস্থিরতা। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে একে একে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিদায় নিয়েছেন ছয়জন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঝড়েও অটল অবস্থানে রয়েছে একটি পরিচিত মুখ—ডাউনিং স্ট্রিটের সরকারি বিড়াল ‘ল্যারি’।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঘোষণার পরও ১৯ বছর বয়সী এই বিড়ালটিই এখনো নিজের দায়িত্বে বহাল রয়েছে। খুব শিগগিরই সে ডাউনিং স্ট্রিটে সপ্তম প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সোমবার লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেবে।

ডাউনিং স্ট্রিটে ল্যারির দীর্ঘ যাত্রা

২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সময় লন্ডনের ‘ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম’ থেকে ল্যারি ডাউনিং স্ট্রিটে আনা হয়। ইঁদুর দমনে দক্ষতার কারণে তাকে সরকারি পদবি ‘চিফ মাউসার’ দেওয়া হয়।

এরপর থেকে ল্যারি প্রত্যক্ষ করেছে একের পর এক প্রধানমন্ত্রীর উত্থান ও পতন—

  • ডেভিড ক্যামেরন (২০১০–২০১৬)
  • থেরেসা মে (২০১৬–২০১৯)
  • বরিস জনসন (২০১৯–২০২২)
  • লিজ ট্রাস (২০২২)
  • ঋষি সুনাক (২০২২–২০২৪)
  • কিয়ার স্টারমার (২০২৪–২০২৬)

এই সময়ের মধ্যে ল্যারির চোখের সামনেই বদলেছে ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেহারা।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ল্যারির ‘সাক্ষাৎ’

ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থানকালে ল্যারি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষীই হয়নি, বরং বিভিন্ন সময় বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও দেখা করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—অনেকেই এই বিখ্যাত বিড়ালটির উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন।

একবার ডাউনিং স্ট্রিটের আঙিনা থেকে একটি শিয়াল তাড়িয়ে দিয়ে সে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে শিরোনামও হয়েছিল। পাশাপাশি ফরেন অফিসের সাবেক বিড়াল ‘পামারস্টন’-এর সঙ্গে তার ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাও’ বেশ আলোচিত।

আলোচনায় ল্যারির আচরণ

তবে ল্যারির আচরণ নিয়ে সবাই একমত নন। স্কটিশ সেক্রেটারি ইয়ান মারে একে ‘একগুঁয়ে’ ও ‘মেজাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এক অনুষ্ঠানে মজা করে বলেন, ল্যারির সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা সফল হয়নি এবং গত এক দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই তার মনমরা ভাবের কারণ হতে পারে।

ডাউনিং স্ট্রিটের একমাত্র স্থায়ী মুখ

বার্ধক্য, অবসর নিয়ে গুঞ্জন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও ল্যারি এখনো ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছে না। ব্রিটিশ রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিসরে সে যেন একমাত্র স্থায়ী প্রতীক—যার সামনে একের পর এক প্রধানমন্ত্রী আসেন, আবার বিদায় নেন, কিন্তু ল্যারি থেকে যায় একই জায়গায়।

ডাউনিং স্ট্রিটবিড়ালযুক্তরাজ্যল্যারি