বিয়ের পরই কেন অনেক নারীর থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়ে?

অনেক নারীরই ধারণা, বিয়ের পর সংসারের নতুন দায়িত্ব, মানসিক চাপ কিংবা শ্বশুরবাড়ির পরিবেশের কারণেই থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়। কারণ বাস্তবে দেখা যায়, অসংখ্য নারীর থাইরয়েডজনিত সমস্যা প্রথমবার শনাক্ত হয় বিয়ের পর। কিন্তু এর সঙ্গে কি সত্যিই বিয়ের কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আসলে ভিন্ন। থাইরয়েডের সমস্যা যেকোনো বয়সেই হতে পারে, তবে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় নারীদের প্রজননক্ষম বয়সে। অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স থেকে মেনোপজের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় এই হরমোনজনিত জটিলতা শুরু হতে পারে।
ঢাকার গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হরমোন ও ডায়াবেটিস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন বলেন, বিয়ের পর থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লেও তার জন্য বিয়ে বা বিয়েসংক্রান্ত মানসিক চাপকে দায়ী করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তাহলে বিয়ের পরই বেশি ধরা পড়ে কেন?
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও তা স্পষ্ট কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। ফলে তারা বুঝতেই পারেন না যে শরীরে একটি হরমোনজনিত সমস্যা বাসা বেঁধেছে। বিয়ের পর সাধারণত অনেক নারী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। গর্ভধারণের আগে কিংবা গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার অন্যতম হলো থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা।
ফলে আগে থেকে থাকা কিন্তু অজানা বা ‘নীরব’ থাইরয়েড সমস্যাগুলো এই সময় সহজেই শনাক্ত হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণে বিলম্ব, বারবার গর্ভপাত বা অন্যান্য প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার কারণ খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে থাইরয়েড পরীক্ষা করা হয় এবং তখনই ধরা পড়ে সমস্যাটি।
চাপ নয়, সচেতনতাই মূল বিষয়
বিয়ের পর একজন নারীর জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সংসার পরিচালনা, পারিবারিক দায়িত্ব- সব মিলিয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তবে এই চাপকে থাইরয়েড রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত হওয়ার সময়কাল এবং বিয়ের পর দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি অনেক সময় একসঙ্গে মিলে যাওয়ায় মানুষ ভুলভাবে দুটির মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে নেয়।
ছোট উপসর্গও অবহেলা নয়
অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, চুল পড়া, মনোযোগে ঘাটতি, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম লাগা—এ ধরনের লক্ষণকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। অথচ এগুলো থাইরয়েডের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
থাইরয়েডের সমস্যা কখন ধরা পড়ল, সেটির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা। আর এজন্য বিয়ে বা পারিবারিক চাপকে দায়ী না করে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।



