বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

বয়স ৩০ এর পর স্কিনকেয়ার নাকি ডায়েটে জোর দেওয়া জরুরি?

09o

বয়স ৩০ পেরোনোর পর আয়নায় নিজের চেহারায় সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন অনেকেই। ত্বকে ম্লানভাব, বলিরেখার আভাস, চুল পড়া কিংবা চুলের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো তখন ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করে। এ সময় অনেকেই নানা ধরনের অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, সিরাম বা ব্যয়বহুল স্কিনকেয়ার পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, বরং ত্বক ও চুলের সুস্থতার ভিত্তি তৈরি হয় শরীরের ভেতর থেকেই।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়সজনিত পরিবর্তন মোকাবিলায় স্কিনকেয়ারের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ পুষ্টির ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সরাসরি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

প্রোটিন: ত্বক ও চুলের মূল নির্মাণ উপাদান

প্রোটিনকে বলা হয় শরীরের ‘বিল্ডিং ব্লক’। ত্বক, চুল ও নখের গঠন বজায় রাখতে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে কোলাজেন উৎপাদন কমে যেতে পারে, ক্ষত সারতে সময় লাগে এবং চুল ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দই, পনির, ডাল ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

ওমেগা-৩: তারুণ্য ধরে রাখার গোপন অস্ত্র

ত্বকের প্রদাহ কমানো এবং চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ব্রণের সমস্যা কমায় এবং খুশকি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড ও চিয়া সিড ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস।

ভিটামিন সি: প্রাকৃতিক কোলাজেন বুস্টার

ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে কোলাজেন অপরিহার্য, আর কোলাজেন তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভিটামিন সি। অনেকেই ত্বকে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করেন, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যের মাধ্যমে এই ভিটামিন গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি উপকার পাওয়া যায়। লেবু, কমলালেবু, আমলকি, পেয়ারা ও ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে।

আয়রন ও ফোলেটের ঘাটতি বাড়াতে পারে চুল পড়া

আয়রন ও ফোলেট শরীরের কোষে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। এই দুটি উপাদানের অভাব হলে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে, ত্বক নিস্তেজ দেখাতে পারে এবং নখ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। শাকসবজি, বিটরুট, ডাল, বেদানা, কুমড়োর বীজ ও বিভিন্ন ধরনের ডালজাতীয় খাবার আয়রন ও ফোলেটের ভালো উৎস।
শুধু স্কিনকেয়ার নয়, প্রয়োজন জীবনযাত্রার পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুস্থ ত্বক ও চুলের ভিত্তি তৈরি হয় শরীরের অভ্যন্তরীণ সুস্থতা থেকে।

৩০ বছরের পর তারুণ্য ধরে রাখতে শুধু আয়নার সামনে সময় ব্যয় করলেই হবে না। দামি ক্রিম বা সিরামের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সুন্দর ত্বক ও ঘন চুলের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

ওমেগা-৩চুলডায়েটপ্রসাধনীভিটামিন সিস্কিনকেয়ার