বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
বিনোদন

সিনেমার সেই বাবারা, যারা আজও রয়ে গেছেন দর্শকের হৃদয়ে

1669370879_drishyam-2

সিনেমায় নায়ক, খলনায়ক কিংবা প্রেমিক চরিত্র নিয়েই সাধারণত বেশি আলোচনা হয়। কিন্তু অনেক সময় গল্পের সবচেয়ে গভীর আবেগ লুকিয়ে থাকে এমন কিছু চরিত্রে, যারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। বলিউডের পর্দায় ‘বাবা’ চরিত্র ঠিক তেমনই এক উপস্থিতি।

একসময় ভারতীয় সিনেমায় বাবাদের দেখা যেত কঠোর শাসক কিংবা পরিবারের একচ্ছত্র কর্তৃত্বশীল সদস্য হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। আধুনিক বলিউডে বাবা মানে শুধু অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের স্বপ্নের সহযোদ্ধা, সংকটের ঢাল, আত্মবিশ্বাসের উৎস এবং নিঃশর্ত ভালোবাসার প্রতীক।

বাবা দিবস উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক বলিউডের সেইসব পিতৃচরিত্রকে, যারা শুধু গল্পকে এগিয়ে নেননি, দর্শকদেরও নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন পিতৃত্ব সম্পর্কে। ‘অ্যাংরেজি মিডিয়াম’-এ ইরফান খানের চম্পক বানসাল ছিলেন স্বপ্নপূরণের জন্য লড়াই করা এক সাধারণ বাবা। মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়ে নেওয়া এই চরিত্র দেখিয়েছে, ভালোবাসার কাছে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাও কখনো কখনো হার মানে।

অন্যদিকে ‘দঙ্গল’-এর মহাবীর সিং ফোগাট চরিত্রে আমির খান ভেঙেছেন সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণা। মেয়েদের কুস্তিগির হিসেবে গড়ে তোলার সাহসী সিদ্ধান্ত তাকে পর্দার বাবাদের মধ্যে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

পরিবারকে রক্ষা করতে একজন বাবা কতদূর যেতে পারেন, তার শক্তিশালী উদাহরণ ‘দৃশ্যম’-এর বিজয় সালগাঁওকর। অজয় দেবগনের অভিনয়ে এই চরিত্র শুধু বুদ্ধিমত্তার নয়, পিতৃত্বের তীব্র দায়বদ্ধতারও প্রতীক হয়ে ওঠে।

আবার ‘পিকু’-তে অমিতাভ বচ্চনের ভাস্কর ব্যানার্জি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের। খামখেয়ালি হলেও মেয়ের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিত্বকে সম্মান করার মধ্য দিয়ে তিনি তুলে ধরেছেন আধুনিক পিতৃত্বের এক নতুন রূপ।

‘বাবুল’-এ অমিতাভের আরেকটি চরিত্র বলরাজ সমাজের প্রচলিত রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে বিধবা পুত্রবধূর নতুন জীবন শুরুর পক্ষে দাঁড়ান। সেখানে তিনি শুধু শ্বশুর নন, একজন মানবিক বাবার প্রতীক।

‘থাপ্পড়’-এ কুমুদ মিশ্রের চরিত্রটি দেখিয়েছে, একজন বাবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কখনো কখনো সন্তানের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। মেয়ের আত্মসম্মানের প্রশ্নে তার নিঃশর্ত সমর্থন দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

মেয়ের কাছাকাছি থাকার জন্য ‘চাচি ৪২০’-তে কমল হাসানের অভিনীত জয় চরিত্রটি যেমন হাসির জন্ম দেয়, তেমনি একজন বাবার অদম্য মমত্ববোধেরও স্মারক হয়ে থাকে।

আর ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল’-এ পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অনুপ সাক্সেনা প্রমাণ করেছেন, সন্তানের প্রতি আস্থা কখনো কখনো তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। মেয়ের স্বপ্নকে নিজের বিশ্বাসে পরিণত করা এই বাবা অনেক দর্শকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘জওয়ান’-এ শাহরুখ খানের বিক্রম চরিত্রও পিতৃত্বের আরেক শক্তিশালী প্রতীক। সন্তানের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন এক বাবার রূপ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বলিউডের এই বাবারা হয়তো কাল্পনিক চরিত্র, কিন্তু তাদের ভালোবাসা, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সমর্থনের গল্প বাস্তব জীবনের অসংখ্য বাবার প্রতিচ্ছবি। তাই তারা শুধু সিনেমার চরিত্র হয়ে থাকেননি; হয়ে উঠেছেন একেকটি প্রজন্মের আবেগ, অনুপ্রেরণা এবং পিতৃত্বের নতুন সংজ্ঞা।

দর্শকবাবাবাবা দিবসসিনেমা