বিশ্বকাপে প্রথম মা-ছেলে জুটি, ইতিহাস গড়লেন জেনি-টাইলার

গ্যালারিতে তখন উত্তেজনা, মাঠে ম্যাচ শুরুর প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পরিবেশ ছিল টানটান। তার আগেই স্টেডিয়ামে পৌঁছে গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক নারী ফুটবলার জেনি বিন্দন। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। চড়া মূল্যের টিকিট কেটে গ্যালারিতে বসে তিনি অপেক্ষায় ছিলেন এক বিশেষ মুহূর্তের—২১ বছর বয়সী ছেলে টাইলার বিন্দনের বিশ্বকাপে অভিষেক দেখার স্বপ্ন নিয়ে।
ম্যাচের শেষ দিকে সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্তই বাস্তবে রূপ নেয়। শেফিল্ড ইউনাইটেডের সেন্টার ব্যাক টাইলার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তার পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ব ফুটবলে লেখা হয় এক অনন্য ইতিহাস—বিশ্বকাপে প্রথম মা-ছেলে জুটি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বে বাবা-ছেলে জুটির পাশাপাশি এবার যুক্ত হলো মা-ছেলের রেকর্ডও। ১৬ জুন দিনটি তাই নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকে।

জেনি বিন্দন নিজেও ছিলেন নিউজিল্যান্ড নারী দলের সাবেক গোলরক্ষক। তিনি ২০০৭ ও ২০১১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি ২০০৮ বেইজিং ও ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকেও খেলেছেন তিনি। ২০০৪ সালে অভিষেকের পর জাতীয় দলের হয়ে ৭৭টি ম্যাচ খেলেন জেনি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সামলেছেন গোলপোস্ট। অবসর নেওয়ার পর তিনি কোচিংয়ে যুক্ত হন এবং ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসিএলএ নারী দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সে সময় টাইলারের বয়স ছিল ১২ বছর। মায়ের পথ ধরেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির একাডেমিতে ফুটবল শেখা শুরু করে ধীরে ধীরে পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রবেশ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি খেলছেন ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম ফরেস্টের হয়ে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় ২০২৩ সালে।
টাইলার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং মায়ের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারা আমার জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতি।’
অন্যদিকে টাইলারের বাবা গ্র্যান্ট বিন্দনও ছিলেন ক্রীড়াবিদ। তিনি নিউজিল্যান্ড জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। ফলে খেলাধুলার পরিবেশেই বড় হয়েছেন টাইলার।
বিশ্বকাপে মা-ছেলে জুটির ইতিহাস লেখা হলেও ফুটবলে বাবা-ছেলের নজির আরও পুরোনো। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলা বাবা-ছেলের জুটির সংখ্যা ২৫টির মতো। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লদিও রেইন ও জিও রেইন এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও তার বাবা আলফ-ইঙ্গ হালান্ডের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ইরানের বিপক্ষে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র করে নিউজিল্যান্ড। পরবর্তী ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি। সেই ম্যাচেও গ্যালারিতে টাইলারকে উৎসাহ দিতে থাকবেন মা জেনি—নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।



