বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

বিড়াল হতে পারে আপনার অ্যালার্জির কারণ

IMG_1660

পোষা প্রাণী, বিশেষ করে বিড়াল ও কুকুর অনেকের জীবনের প্রিয় সঙ্গী হলেও এগুলোই অনেক সময় অ্যালার্জির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই অ্যালার্জি মূলত প্রাণীর লালা, খুশকি, মূত্র বা ত্বকের নিঃসরণে থাকা প্রোটিন থেকে সৃষ্টি হয়। এসব প্রোটিন শরীরে প্রবেশ করলে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখে চুলকানি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কাশি এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিড়ালের ক্ষেত্রে ‘ফেল ডি ওয়ান’ নামের একটি প্রোটিন অ্যালার্জির প্রধান উৎস। এটি অত্যন্ত হালকা ও আঠালো হওয়ায় সহজেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও কাপড়ে লেগে থাকে দীর্ঘ সময়। বিড়াল নিজের শরীর বারবার পরিষ্কার করার সময় এই প্রোটিন লোম ও ত্বকের মাধ্যমে চারপাশে ছড়িয়ে দেয়, ফলে ঘরের পরিবেশে অ্যালার্জেন দ্রুত জমা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ বিড়াল বা কুকুরের অ্যালার্জিতে ভোগেন, এবং কুকুরের তুলনায় বিড়ালের অ্যালার্জি বেশি সাধারণ। এর একটি বড় কারণ হলো বিড়ালের খুশকি খুব ছোট ও হালকা হওয়ায় তা সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া লোমের সঙ্গে ধুলো, পরাগরেণু ও ছত্রাকের মতো অন্যান্য অ্যালার্জেন যুক্ত হয়ে সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। ঘরে কার্পেট বা গালিচা থাকলে সেখানে অ্যালার্জেন জমে থাকে বেশি, তাই সম্ভব হলে মসৃণ মেঝে ব্যবহার করা ভালো। এতে লোম বা ধুলো সহজে পরিষ্কার করা যায়। পোষা প্রাণীকে শোবার ঘরে প্রবেশ করতে না দিলে অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ অনেকটাই কমে যায়।

একইসঙ্গে ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিছানার চাদর, পর্দা ও আসবাবপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করলে জমে থাকা খুশকি ও লোম দূর করা সম্ভব। বাতাস পরিষ্কার রাখতে ‘এইচইপিএ’ ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করলে তা ক্ষুদ্র অ্যালার্জেন কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি জানালা খোলা রেখে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করলে ঘরের ভেতরে অ্যালার্জেন জমে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা প্রাণীর অ্যালার্জি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও সঠিক যত্ন ও সচেতনতা থাকলে এর প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ফলে বিড়ালের সঙ্গে থেকেও স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক জীবনযাপন করা সম্ভব।

যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন 

পোষা প্রাণীর কারণে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন ভেজা ব্রাশ বা কাপড় দিয়ে পোষ্যকে আঁচড়ালে ছড়িয়ে থাকা লোমের পরিমাণ কমে আসে। এ কাজটি সম্ভব হলে খোলা বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে করা উচিত এবং পরে সেই জায়গা পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। নিয়মিত পরিচর্যায় লোম ঝরে পড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ঘরের ভেতরে অ্যালার্জেন কম জমে।

এছাড়া পোষ্যের সংস্পর্শে আসার পর জামাকাপড় ও বিছানাপত্র ঘন ঘন ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রায় ধোয়া হলে অ্যালার্জেন ধ্বংসে তা বেশি কার্যকর হয়। একই সঙ্গে হাত পরিষ্কার রাখাও জরুরি, যাতে ত্বকের মাধ্যমে অ্যালার্জেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন ভ্যাকুয়াম করা ঘরের অ্যালার্জেন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। এতে মেঝে ও আসবাবপত্রে জমে থাকা লোম ও ধুলা নিয়মিত সরানো যায়, ফলে অ্যালার্জির ঝুঁকি কমে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শুকনো ঝাড়ু দেওয়ার চেয়ে ভেজা পদ্ধতিতে পরিষ্কার করাই বেশি কার্যকর। কারণ শুকনো পরিষ্কারে অ্যালার্জেন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, কিন্তু ভেজা পরিষ্কারে তা পৃষ্ঠে আটকে থাকে এবং সহজে সরানো যায়। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ও মোছার সমন্বিত ব্যবহার ঘরকে আরও পরিষ্কার রাখতে সহায়ক এবং অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যালার্জিকুকুরবিড়াল