কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মদিনে কচি-কাঁচাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

শিশু-কিশোর সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার সদস্যরা উদ্যাপন করেছে সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ১০টায় কচি-কাঁচা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৃত্যপরিচালক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার প্রবীণ সদস্য আমানুল হক। তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন শিশুদের অকৃত্রিম বন্ধু এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের এক অনন্য পথপ্রদর্শক। কচি-কাঁচার মেলার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল মায়ের মতো স্নেহময়।
মেলার সভাপতি খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কচি-কাঁচার মেলা শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি শিশুদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আন্দোলন। সুফিয়া কামালের বাড়ির আঙিনায় যে ছোট্ট বীজটি রোপিত হয়েছিল, আজ তা একটি মহীরূহে পরিণত হয়েছে।’
সাবেক সভাপতি ড. রওশন আরা ফিরোজ বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন সময়কে অতিক্রম করা এক আলোকবর্তিকা। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সমাজে নারী জাগরণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবনসংগ্রাম ও আদর্শ তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।’

শিশুশিল্পী শেখ মাশিয়াত আয়েশা বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি সুফিয়া কামাল খালাম্মা ছোটদের খুব ভালোবাসতেন। আমাদের কচি-কাঁচার মেলাও তার বাড়ির আঙিনা থেকেই শুরু হয়েছিল। তাই তাকে মনে হলে আমাদের খুব আপন একজন মানুষের কথা মনে হয়। আমরা তার দেখানো পথে ভালো মানুষ হতে চাই এবং তার মতো দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’
আয়োজনের সভাপতি তিলোত্তমা বিশ্বাস বলেন, কবি সুফিয়া কামাল শিশুদের মধ্যে সৌন্দর্যবোধ, সহমর্মিতা এবং সংস্কৃতিচর্চার যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজও কচি-কাঁচার মেলার কার্যক্রমে জীবন্ত হয়ে আছে।
সাংস্কৃতিক পর্বে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে কবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে সুফিয়া কামালের রচনাভিত্তিক গান, কবিতা এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য, অভিভাবক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর সুফিয়া কামালের বাড়ির আঙিনায় শিশু-কিশোরদের মানবিক ও সৃজনশীল বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কচি-কাঁচার মেলা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কবি সুফিয়া কামালের স্নেহ, প্রেরণা ও আদর্শ এই সংগঠনের পথচলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।


