পাবনায় ১৬০০ ছাড়িয়েছে সমকামী, ১৬ জন এইডসে আক্রান্ত

পাবনা জেলায় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইডস সংক্রমণের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। জেলার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে সমকামী জনগোষ্ঠীর সংখ্যাই ১ হাজার ৬১৫ জন। এ অবস্থায় জেলায় এইডস সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার ও এইচআইভি : গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে হাসপাতালের ‘কী পপুলেশনস (কেপি) সেন্টার’।
কর্মশালায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কেপি সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. মনিরুজ্জামান জেলার এইচআইভি পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন। তিনি জানান, পাবনায় প্রধানত শিরায় মাদকগ্রহণকারী, নারী যৌনকর্মী, পুরুষ যৌনকর্মী, সমকামী ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
কেপি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ১ হাজার ৬১৫ জন সমকামী, ৯০৮ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৭৬৫ জন নারী যৌনকর্মী, ৪৮৪ জন শিরায় মাদকগ্রহণকারী এবং ১১০ জন হিজড়া জনগোষ্ঠীকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
ডা. মনিরুজ্জামান আরও জানান, এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬ জনের শরীরে এইডস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন সমকামী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
কেপি সেন্টারের ম্যানেজার ডা. আহসানুল কবির বলেন, এত বড় সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কর্মশালায় এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, কোষাধ্যক্ষ প্রবীর কুমার সাহাসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



