বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
নারী

যৌ ন অপরাধে দণ্ডিত, এবার ফ্লোরিডার শহর পরিচালনার দায়িত্বে

ইউ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর জে (Jay)-এ প্রশাসনিক একটি নিয়োগকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শহরটির নতুন টাউন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন এপ্রিল ওয়াটসন, যিনি একসময় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্কের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং বর্তমানে ফ্লোরিডার নিবন্ধিত যৌন অপরাধীদের তালিকাভুক্ত।

আগামী ৩ জুলাই বর্তমান টাউন ম্যানেজার এরিক সাইব আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করবেন। এরপর দায়িত্ব বুঝে নেবেন শহরের বর্তমান অপারেশনস ম্যানেজার এপ্রিল ওয়াটসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জে শহরের মেয়র শন ওয়েন্স।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে ওয়াটসনের অতীত। জানা যায়, ২০১০ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্কের তিনটি অভিযোগে আদালতে ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দুই দশক আগে। ২০০৭ সালে এপ্রিল ওয়াটসন ফ্লোরিডার জে হাই স্কুলে গণিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় তিনি এবং একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক অ্যাশলি বারকেট কয়েকজন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় ওয়াটসনের বয়স ছিল ৩১ বছর।

তদন্তে উঠে আসে, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় চার মাস ধরে তিন কিশোরের সঙ্গে অনিয়মিতভাবে এসব সম্পর্ক চলেছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিক্ষিকাদের বাসভবনেই একাধিকবার এসব ঘটনা ঘটেছে।

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে একটি বেনামি চিঠির মাধ্যমে। ওই চিঠি স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে সান্তা রোজা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তদন্ত শুরু করে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুই শিক্ষিকাকে আইনের আওতায় আনা হয়।

মামলার রায়ে এপ্রিল ওয়াটসন ও অ্যাশলি বারকেটকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও তারা প্রায় এক বছর কারাভোগ করেন। এছাড়া আদালত তাদের ১৮ মাস গৃহবন্দি পর্যবেক্ষণে রাখা এবং পাঁচ বছরের প্রবেশন মেনে চলার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আদালতের শর্ত পূরণ করায় তারা আগাম মুক্তি লাভ করেন।

আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দুজনকেই যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন করা হয়, যা এখনও বহাল রয়েছে।

তবে মামলার সময় দুই কিশোর আদালতে জানিয়েছিল, সম্পর্কগুলো তাদের সম্মতিতেই হয়েছিল এবং তারা শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির পক্ষপাতী নয়। যদিও এই বক্তব্য মামলার আইনি অবস্থান পরিবর্তন করেনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে স্কুলে পাঠাই শিক্ষা গ্রহণের জন্য, শিক্ষকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়ানোর জন্য নয়’।

এদিকে নতুন দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেও এপ্রিল ওয়াটসনের পাশে দাঁড়িয়েছেন শহরের মেয়র শন ওয়েন্স। তিনি স্বীকার করেছেন যে ওয়াটসনের অতীত সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে তার মতে, বহু বছর আগের একটি ঘটনা দিয়ে বর্তমানকে বিচার করা উচিত নয়।

মেয়র বলেন, ‘আমি মামলার সব বিস্তারিত জানি না। তবে আমি জানি, এই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয় সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ তার দক্ষতা ও কাজের প্রতি আস্থা রাখেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ বদলায়, মানুষ পরিবর্তিত হয়’।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ওয়াটসন নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। তার আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি যৌন অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত কাউন্সেলিং সম্পন্ন করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একজন নিবন্ধিত যৌন অপরাধী কি জনসেবামূলক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া উচিত?

এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন ফ্লোরিডার ছোট্ট শহর জে-তে চলছে আলোচনা, বিতর্ক এবং মতবিভক্তি। একপক্ষ বলছে, অপরাধের শাস্তি ভোগ করার পর একজন মানুষকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যপক্ষের মতে, অতীতের এমন গুরুতর অপরাধ জনআস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বিতর্ক যেদিকেই গড়াক না কেন, এপ্রিল ওয়াটসনের নিয়োগ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রশাসন, জনআস্থা এবং অপরাধ-পরবর্তী পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

এপ্রিল ওয়াটসনদায়িত্বফ্লোরিডা