সকালে ডিজিএম, বিকেলেই বাতিল! বিমানে দায়িত্ব দেওয়া-নেওয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে কর্মকর্তা পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগমকে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানজুড়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জারি করা এক প্রশাসনিক আদেশে শাহনাজ বেগমকে ডিজিএম পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরই একই দিনে কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং দায়িত্ব প্রত্যাহার করে নেয়। ঘটনাটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা পদায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাতিল হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া সম্পর্কে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বিমান সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভিযোগ, শাহনাজ বেগমকে ঘিরে অতীতেও বিভিন্ন বিতর্ক ছিল। তাদের দাবি, চাকরিতে যোগদানের দীর্ঘ সময় পর জন্মতারিখ সংশোধনের মাধ্যমে তিনি চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে নেন। পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
এ ছাড়া শিডিউলিং ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফ্লাইট ডিউটি বণ্টনে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের মতে, এর ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা নিয়েও তাঁর নাম আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বিশেষ ফ্লাইটের ক্রু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। পরে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কয়েকজন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
আরও একটি অভিযোগ হলো, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় শাহনাজ বেগমের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ থাকলেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাহনাজ বেগমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বুসরা ইসলাম বলেন, শাহনাজ বেগমকে ডিজিএম পদে স্থায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। তাঁকে কেবল অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে না করলে সেই দায়িত্ব প্রত্যাহার করার এখতিয়ার আছে।



