বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
বিনোদন

অফিসে প্রেম, নাকি পেশার ঝুঁকি?

9

কর্মক্ষেত্রে প্রেম কি আদৌ গ্রহণযোগ্য? অফিসের নিয়ম-কানুন, পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত অনুভূতির সংঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেই পুরোনো প্রশ্নকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে নেটফ্লিক্সের নতুন রোমান্টিক কমেডি ‘অফিস রোমান্স’। মুক্তির পরপরই ছবিটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

নেটফ্লিক্সের সাপ্তাহিক বৈশ্বিক চার্টে শীর্ষস্থান দখল করা এই ছবিটি প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ ঘণ্টা দেখা হয়েছে। ভিউয়ের হিসাবে যা ২০.৯ মিলিয়নেরও বেশি। ফলে এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্ট্রিমিং কনটেন্টে পরিণত হয়েছে।
ছবির মূল চরিত্র জ্যাকি ক্রুজ, একটি প্রভাবশালী এয়ারলাইন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন জেনিফার লোপেজ। কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করেন এবং অফিসে প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর অবস্থান একেবারেই আপসহীন।

কিন্তু সবকিছু বদলে যায় নতুন আইন উপদেষ্টা ড্যানিয়েল ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ারের আগমনে। ব্রেট গোল্ডস্টেইন অভিনীত এই চরিত্র ধীরে ধীরে জ্যাকির জীবনে এমন এক আবেগের জন্ম দেয়, যা তাঁর নিজের তৈরি নিয়মকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। জ্যাকির ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন দুটিই জটিল। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং তাঁর বাবা এখনো কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে সক্রিয়। মেয়ের নেতৃত্বকে খাটো করে দেখা থেকে শুরু করে বোর্ড মিটিংয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করা- এসব কারণে জ্যাকিকে নিয়মিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

এর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী একটি বিমান সংস্থার দায়ের করা মামলায় নতুন সংকটে পড়ে এয়ার ক্রুজ। অভিযোগ ওঠে, ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেছেন জ্যাকি। ঠিক এমন সময়েই তাঁর পাশে দাঁড়ান ড্যানিয়েল। পেশাগত সম্পর্ক ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয় এবং সেখান থেকেই গল্পের মোড় ঘুরতে শুরু করে।

‘অফিস রোমান্স’-এর বিশেষত্ব হলো, এটি কর্মক্ষেত্রের প্রেমের প্রচলিত চিত্রকে উল্টে দিয়েছে। সাধারণত এ ধরনের গল্পে ক্ষমতাবান পুরুষ ও অধস্তন নারী কর্মীর সম্পর্ক দেখানো হয়। এখানে উল্টোভাবে ক্ষমতার আসনে একজন নারী, আর সেই অবস্থান থেকেই তাঁকে প্রেম ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।

ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ব্রেট গোল্ডস্টেইন ও জো কেলি। পরিচালনা করেছেন ওল পার্কার। ‘টেড ল্যাসো’ সিরিজের জনপ্রিয় অভিনেতা গোল্ডস্টেইনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রোমান্টিক কমেডি, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
দর্শকদের মতে, ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি জেনিফার লোপেজ ও ব্রেট গোল্ডস্টেইনের রসায়ন। যদিও গল্পের পরিণতি অনেকটাই অনুমান করা যায়, তবুও দুই তারকার উপস্থিতি পুরো সিনেমাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

তবে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া একেবারে একমুখী নয়। কেউ এটিকে উপভোগ্য ও হৃদয়ছোঁয়া রোমান্টিক কমেডি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক নিয়ে ছবিটি নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পারেনি। তবুও দর্শকপ্রিয়তার দিক থেকে ছবিটি এখন নিঃসন্দেহে সফল।

ছবিটি আরও একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে- মানুষ কি সত্যিই নিজের অনুভূতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? অফিসের নীতিমালা হয়তো সম্পর্ককে নিরুৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের সিদ্ধান্ত অনেক সময় নিয়মের সীমারেখা মানতে চায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের মনোরম লোকেশনে ধারণ করা ‘অফিস রোমান্স’ জেনিফার লোপেজের ক্যারিয়ারেও নতুন সাফল্যের অধ্যায় যোগ করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি সিনেমা প্রত্যাশিত সাড়া না পেলেও এই ছবির মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, রোমান্টিক কমেডির পর্দায় তাঁর আবেদন এখনো অটুট।

অফিস রোমান্সজেনিফার লোপেজনেটফ্লিক্সপেশা