বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
বিবিধ

আজ বিশ্ব গোসল দিবস

Depositphotos_54530337_original-scaled

সকালের তাড়াহুড়োতে কেউ পাঁচ মিনিটে গোসল সেরে ফেলেন, কেউ আবার দিনের ক্লান্তি ধুয়ে ফেলতে দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে দাঁড়িয়ে থাকেন। কারও কাছে গোসল নিছক দৈনন্দিন অভ্যাস, কারও কাছে তা এক ধরনের প্রশান্তি। অথচ এই সাধারণ কাজটিই যে মানবসভ্যতার ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, সে কথা আমরা খুব কমই ভাবি। বিশ্ব গোসল দিবস আমাদের সেই কথাটিই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো- গোসল দিবস কীভাবে এলো বা কারা এর প্রচলন করল?

১৪ জুন গ্রিক গণিতবিদ, বিজ্ঞানী এবং পণ্ডিত আর্কিমিডিস গোসলের সময় আবিষ্কার করেছিলেন, পানিতে ডুবে কোনো বস্তুর আয়তন সঠিকভাবে পরিমাপ করা যেতে পারে! এই আবিষ্কারের উত্তেজনা ধরে রাখতে না পেরে আর্কিমিডিস বাথটাব থেকে লাফিয়ে উঠে চিৎকার করে বলেন, ‘ইউরেকা, ইউরেকা!’ শুধু তাই নয় তিনি আনন্দে গ্রিসের সিরাকিউজের রাস্তায় দৌড়াতে শুরু করেন।

ধারণা করা হয়, আর্কিমিডিসের সেই আনন্দের দিনটির স্মরণে ১৪ জুনকে গোসল দিবস হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল।

মানুষের সঙ্গে পানির সম্পর্ক শুধু প্রয়োজনের নয়, অনুভূতিরও। হাজার বছর আগে নদীর তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতাগুলোতে গোসল ছিল পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। প্রাচীন রোমের পাবলিক বাথ, জাপানের অনসেন, তুরস্কের হাম্মাম কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার পুকুরঘাট- সব জায়গাতেই গোসল একসময় মানুষের মিলন, বিশ্রাম ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

আধুনিক জীবনে সেই অভিজ্ঞতা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন গোসল অনেকের জন্য একটি দ্রুত সেরে ফেলার কাজ। কিন্তু গবেষণা বলছে, গোসল কেবল শরীর পরিষ্কার করে না; এটি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিনের শেষে একটুখানি উষ্ণ পানির স্পর্শ শরীরের পেশিকে শিথিল করে, মনকে শান্ত করে এবং ঘুমের মানও উন্নত করতে পারে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, গোসলের সঙ্গে মানুষের আবেগেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মন খারাপ হলে অনেকেই গোসল করে নিজেকে কিছুটা হালকা অনুভব করেন। বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে কিংবা জীবনের কঠিন সময় পার করার মুহূর্তেও পানি যেন এক ধরনের মানসিক আশ্রয় হয়ে ওঠে। হয়তো এ কারণেই পৃথিবীর প্রায় সব সংস্কৃতিতেই পানি ও গোসলকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

তবে বিশ্ব গোসল দিবসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও আছে। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের কাছে এখনও নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানি সহজলভ্য নয়। যেখানে আমরা প্রতিদিন অবলীলায় গোসল করি, সেখানে অনেক মানুষকে একই পানি পান করা, রান্না করা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য সংগ্রাম করতে হয়। তাই গোসলের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি পানির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেয় এই দিনটি।

বিশ্ব গোসল দিবস আসলে একটি সহজ অথচ গভীর প্রশ্ন সামনে আনে- আমরা কি এখনও পানির সঙ্গে সেই মানবিক সম্পর্কটুকু ধরে রাখতে পেরেছি?

প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভিড়ে গোসলকে আমরা হয়তো একটি সাধারণ কাজ বলেই মনে করি। কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, এটি শুধু শরীর পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া নয়। এটি ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার, নিজেকে নতুন করে অনুভব করার এবং প্রকৃতির সবচেয়ে মূল্যবান উপহার- পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক নীরব উপলক্ষ।

দৈনন্দিন অভ্যাসবিশ্ব গোসল দিবসমানসিক সুস্থতাস্বাস্থ্য