আট বছর পর আবারও কুর্মিটোলায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা, নিহত ১

২০১৮ সালে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে যে সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, ঠিক আট বছর পর একই স্থানে আবারও ঘটেছে প্রাণঘাতী বাস দুর্ঘটনা। রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়লে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে পরিস্থান পরিবহনের একটি বাস কুর্মিটোলা এলাকায় যাত্রী নামানোর জন্য রাস্তার পাশে থামার চেষ্টা করছিল। এ সময় বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর বাসটি হাসপাতালের ভেতরের সড়কে ঢুকে প্রধান ফটকের পাশে থাকা গ্যাসের কন্ট্রোল রুমের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি একটি হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের গেটের সামনে দুই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাসটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসতে দেখে একজন সরে যেতে পারলেও রফিকুল ইসলাম বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় বাসে থাকা শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ বাসটির চালককে আটক করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাসটির ব্রেক বিকল হওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চালককে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এই দুর্ঘটনা আবারও ফিরিয়ে এনেছে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাইয়ের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি। ওইদিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনেই বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মিম নিহত হন। সেই ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নজিরবিহীন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়।
প্রায় আট বছর পর একই স্থানে আবারও প্রাণহানির ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের ফিটনেস এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের মতে, বারবার একই এলাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান হয়নি।



