বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
নারী

নারী-শিশু নির্যা’তন মামলায় আর নয় দীর্ঘ অপেক্ষা, হাইকোর্টে সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন

10-67cbf9f79252c

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বিচার বিভাগ। রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার ঘটনায় আলোচিত রায়ের পর এবার এ ধরনের মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনায় বুধবার হাইকোর্টের একটি নির্দিষ্ট দ্বৈত বেঞ্চ গঠন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ আগামী ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।

দীর্ঘদিন ধরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোতে নিম্ন আদালতে রায় হলেও আপিল পর্যায়ে নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার অভিযোগ ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারকে। নতুন এই বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে সেই জট কমিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার আশা করা হচ্ছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কনফারমেশন রেফারেন্স, একই রায় থেকে উদ্ভূত ফৌজদারি আপিল, জেল আপিল, আপিল গ্রহণের আবেদন, ফৌজদারি বিবিধ মামলা, রিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট রুল ও আবেদনপত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনবে এই বেঞ্চ।

Advertisements

বিচারাঙ্গনে এ উদ্যোগের পেছনে অন্যতম প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে পল্লবীর বহুল আলোচিত শিশুহত্যা মামলা। গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১৯ দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, নিম্ন আদালতের রায় দ্রুত হলেও আপিল শুনানিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় বিচার কার্যকর হতে দেরি হয়। বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনা হলে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো দ্রুত শুনানির জন্য একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেন।

আইনজীবী মহলের মতে, বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠনের ফলে একদিকে যেমন বিচারিক জট কমবে, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও আরও সংক্ষিপ্ত হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অপরাধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল- রায় ঘোষণার পর আপিলের দীর্ঘ অপেক্ষায় যেন বিচার থমকে না থাকে। হাইকোর্টের নতুন এই বিশেষ বেঞ্চ সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisements
অপেক্ষানারী-শিশু নির্যাতন মামলাপ্রধান বিচারপতিহাইকোর্ট