বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য কত হলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়?

couple3_20240605_133749468

প্রেমের ক্ষেত্রে বয়সকে অনেকেই গুরুত্ব দিতে চান না। ভালোবাসা যে বয়স, ধর্ম কিংবা সামাজিক অবস্থানের গণ্ডি মানে না- এমন কথাই আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। বাস্তব জীবনেও দেখা যায়, অনেক যুগলের বয়সের ব্যবধান বেশ বড় হলেও তারা সুখেই সংসার করছেন। আবার সমবয়সী দম্পতিদের মধ্যেও বিচ্ছেদের ঘটনা কম নয়। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়- বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য কত হলে সম্পর্ক সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

বিশ্বজুড়ে অনেক আলোচিত দম্পতির মধ্যেই বয়সের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্ত্রী তার চেয়ে ২৫ বছরের বড়। একইভাবে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া স্বামী নিক জোনাসের চেয়ে বয়সে বড়। অন্যদিকে সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর কিংবা রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটের মধ্যেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য বয়সের ব্যবধান।

সম্প্রতি প্রায় ৩ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় বয়সের পার্থক্য ও সম্পর্কের স্থায়িত্বের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল বলছে, বয়সের ব্যবধান যত বাড়ে, বিচ্ছেদের ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে।

৫ থেকে ৭ বছরের পার্থক্য

অনেক দম্পতির ক্ষেত্রেই এই বয়সের ব্যবধান দেখা যায়। গবেষণা অনুযায়ী, এ ধরনের সম্পর্কে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা প্রায় ১৮ শতাংশ।

১০ বছরের পার্থক্য

যখন স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান ১০ বছরের কাছাকাছি হয়, তখন সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৯ শতাংশে। গবেষকদের মতে, জীবনধারা, চিন্তাভাবনা ও অগ্রাধিকারের পার্থক্য এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০ বছরের পার্থক্য

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে ২০ বছরের বয়সের ব্যবধান। এমন সম্পর্কে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা প্রায় ৯৫ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাহলে আদর্শ বয়সের পার্থক্য কত?

গবেষণার ফল বলছে, ১ থেকে ৩ বছরের বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতিদের সম্পর্ক সবচেয়ে স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের ঝুঁকি মাত্র ৩ শতাংশের মতো। সমবয়সী বা কাছাকাছি বয়সের মানুষের মধ্যে জীবনযাত্রা, লক্ষ্য ও অভিজ্ঞতার মিল বেশি থাকায় সম্পর্ক টেকসই হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, বয়সই কোনো সম্পর্কের একমাত্র নিয়ামক নয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া, যোগাযোগের দক্ষতা এবং একসঙ্গে পথচলার ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মনোবিজ্ঞানী জিনামারি গুয়ারিনোর মতে, অনেক সময় বয়সে ছোট সঙ্গীর মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বা একাকীত্বের ভয় কাজ করতে পারে। বিশেষ করে একজন সঙ্গী বয়সে অনেক বড় হলে ভবিষ্যতে তাকে হারানোর আশঙ্কা সম্পর্কের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

তাই গবেষণার পরিসংখ্যান কিছু প্রবণতা তুলে ধরলেও, সুখী দাম্পত্যের কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। বয়সের ব্যবধান বেশি হলেও যদি দুজনের মধ্যে ভালোবাসা, আস্থা এবং মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকে, তাহলে সেই সম্পর্কও দীর্ঘ ও সুন্দর হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ীপার্থক্যবয়সসম্পর্কস্ত্রীস্বামী