বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
বিনোদন

বিতর্কের পর সংশোধন, বদলে গেল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফল

colocitro-20260305095423

২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের পর অবশেষে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফলাফল ঘোষণার পর কয়েকটি বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে জুরিবোর্ডের সুপারিশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি আলোচনায় এলে পুরস্কারের ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এ বছরের মার্চ মাসে জুরিবোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে মৌখিকভাবে যোগাযোগ করে তাদের মতামত নেওয়া হয়। পরে সেই মতামতের ভিত্তিতেই শুরু হয় পুরস্কারের ফলাফল পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া।

সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আজীবন সম্মাননা বিভাগে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত তালিকায় প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুকে আজীবন সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা অনুযায়ী, এই সম্মাননার জন্য জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনার বিধান রয়েছে। ফলে ঘোষণার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হবে। অন্যদিকে আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী শবনম এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুরু থেকেই জুরিবোর্ডের সুপারিশে শবনমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে সেরা চিত্রনাট্য বিভাগেও সংশোধন আনা হয়েছে।

প্রথম ঘোষণায় ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তবে পরে অভিযোগ ওঠে, তিনি ওই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচয়িতা নন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পর্যালোচনার পর সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে এই বিভাগে তাসনীমুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফলাফল সংশোধনের এই ঘটনা দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে পুরস্কার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ ও জুরিবোর্ডের সুপারিশের যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলচ্চিত্রপুরস্কারসম্মাননা