বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
বিনোদন

মাত্র ১৩ লাইনের এক কবিতা থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘বনলতা সেন’

nabila-1-800×500

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম অমর সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’। কবি জীবনানন্দ দাশের এই কালজয়ী কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে, বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়। পরে ১৯৪২ সালে এটি কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ পায়।

মাত্র ১৩ লাইনের একটি কবিতা, অথচ সেই অল্প শব্দের মধ্যেই কবি জীবনানন্দ দাশ তুলে ধরেছিলেন হাজার বছরের ক্লান্তি, নিঃসঙ্গতা আর একটুখানি আশ্রয়ের গভীর অনুভূতি। সেই কালজয়ী কবিতাকেই এবার বড় পর্দায় নিয়ে এসেছেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। বাস্তবতা ও রূপকের মিশেলে তিনি নির্মাণ করেছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’।

সিনেমাটিতে ‘বনলতা সেন’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা এবং কবি জীবনানন্দ দাশ-এর চরিত্রে দেখা যাবে খাইরুল বাশার-কে। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ ও শরীফ সিরাজসহ আরও অনেকে।

কবির নিঃসঙ্গতা, সময়ের ভেতর হারিয়ে যাওয়া এক মানুষের দীর্ঘ যাত্রা এবং এক নারীর মাঝে শান্তির খোঁজ— সবকিছুই তুলে ধরা হয়েছে নান্দনিকভাবে।

‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে…’— এই বিখ্যাত পংক্তির আবেগকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে সিনেমার গল্প। তবে এটি শুধু কবিতার সরল চিত্রায়ন নয়; বরং কবির মানসজগৎ, অনুভূতি এবং জীবনের দর্শনকে আধুনিক সিনেমার ভাষায় তুলে ধরার এক সাহসী প্রয়াস।
চলচ্চিত্রটির আবহসংগীত, সংলাপ, দৃশ্যধারণ এবং শিল্প নির্দেশনায় রয়েছে কাব্যিক ছোঁয়া। দর্শক যেন সিনেমা নয়, বরং একটি দীর্ঘ কবিতার ভেতর দিয়ে হাঁটবেন— এমন অনুভূতি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।

ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির প্রথম টিজার। ৫৪ সেকেন্ডের সেই ঝলকে রহস্যময় আবহ তৈরি করেছেন নির্মাতা। টিজারে লাল শাড়ি পরা এক নারীকে দেখা যায়—তিনি কি সেই বনলতা সেন, যার কাছে দু’দণ্ড শান্তি পেয়েছিলেন কবি? একই সঙ্গে দেখা মেলে এক নিরন্তর পথচলার। হাজার বছর ধরে হেঁটে চলা মানুষটির উপস্থিতি যেন মনে করিয়ে দেয় কবিতার সেই বিখ্যাত পঙক্তির আবহ।

টিজারে আরও কিছু রহস্যময় দৃশ্য দর্শকের কৌতূহল বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পেছনে থাকা এক অচেনা মানুষের উপস্থিতি নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। কবিতা, স্মৃতি, নিঃসঙ্গতা ও কল্পনার মিশেলে নির্মাতা কীভাবে জীবনানন্দের জগতকে পর্দায় তুলে ধরেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

কবিতাজীবনানন্দ দাশবনলতা সেনসিনেমা