বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
নারী

পিয়াজুর পর পিজ্জায়ও বাজিমাত, সেমিফাইনালে সাবিনা খান

ইউকে

বাংলাদেশি খাবারের স্বাদ ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী সাবিনা খান। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘মাস্টারশেফ ইউকে’ এর ২২তম আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে এবার সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

এর আগেই নিজের তৈরি ‘মুড়ি’ ও ‘পিয়াজু’ দিয়ে বিচারকদের মন জয় করেছিলেন সাবিনা। বিশেষ করে তার তৈরি পিয়াজুকে বিচারকরা মজা করে নাম দিয়েছিলেন ‘Bullets of Joy’। বাংলাদেশি স্ট্রিট ফুডের স্বাদ, মশলার ব্যবহার এবং উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়ে বিচারকরা সাবিনার রান্নার প্রশংসা করেন।

সেমিফাইনালে সাবিনা পরিবেশন করেন এক অভিনব ফিউশন ডিশ— ‘হইসিন অরেঞ্জ গ্লেজড ডাক পিজ্জা’। এতে ছিল গরগনজোলা চিজ, শিটাকে মাশরুম, ক্রিসপি কেল, তিল ও পেঁয়াজের সমন্বয়। আর পুরো ডিশটির বেস তৈরি করা হয়েছিল রোস্টেড রেড পেপার ও গোচুজাং দিয়ে। বাংলাদেশি স্বাদ ও আন্তর্জাতিক কুইজিনের মেলবন্ধনে তৈরি এই ডিশ বিচারকদের আবারও মুগ্ধ করে।

হিট, কোয়ার্টার ফাইনাল ও নকআউট পর্ব পেরিয়ে সাবিনা নিজেকে এ মৌসুমের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিচারকদের মতে, সাবিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সাহসী ফ্লেভারকে ভারসাম্যের সঙ্গে উপস্থাপন করা। তারা মন্তব্য করেন, ‘তিনি হৃদয় দিয়ে রান্না করেন, আর সেই অনুভূতি তার খাবারে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।‘

Advertisements

উল্লেখ্য, লন্ডনভিত্তিক পরিবেশ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করলেও রান্নার প্রতি ভালোবাসা থেকেই মাস্টারশেফে অংশ নেন সাবিনা। ঢাকার গুলশানে কাটানো শৈশব, পারিবারিক রান্নাঘর আর বাঙালি খাবারের স্বাদই তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। বর্তমানে স্বামী আসিফ ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রেটার লন্ডনে বসবাস করছেন তিনি।

নিজের রান্নাঘরকে ‘স্বাদের পরীক্ষাগার’ বলে উল্লেখ করেন সাবিনা। তার বিশ্বাস, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবারের মিশ্রণ হলেও প্রতিটি উপকরণের স্বতন্ত্র স্বাদ বজায় থাকা জরুরি। তাই তার রান্নায় কাঁচামরিচের ঝাঁজ, সরিষা বাটার তীব্রতা কিংবা পাঁচফোড়নের সুবাস বারবার ফিরে আসে।

Advertisements
ইউকেমাস্টারশেফসাবিনাসেমিফাইনাল