শিশু সুরক্ষায় জরুরি শিক্ষা: ‘গুড টাচ–ব্যাড টাচ’

বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। গ্রাম কিংবা শহর, স্কুল, মাদ্রাসা, প্রতিবেশী বা আত্মীয়—কোথাও যেন শিশুরা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে শিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী হয় শিশুর পরিচিত কেউ। এই বাস্তবতায় শিশুদের ‘গুড টাচ–ব্যাড টাচ’শেখানো এখন আর শুধু সচেতনতার বিষয় নয়, বরং অত্যন্ত জরুরি নিরাপত্তা শিক্ষা।

অনেক শিশু বুঝতেই পারে না যে তার সঙ্গে যা ঘটছে, তা অন্যায় বা নির্যাতন। অপরাধীরা সাধারণত শিশুর সরলতা ও ভয়কে কাজে লাগায়। কখনো ভালোবাসার অভিনয় করে, কখনো ভয় দেখিয়ে বা গোপন রাখার কথা বলে তারা শিশুকে চুপ করিয়ে রাখে। ফলে শিশুরা দীর্ঘ সময় নির্যাতনের শিকার হলেও কাউকে কিছু বলতে পারে না। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের শেখাতে হবে কোন স্পর্শ নিরাপদ, আর কোন স্পর্শ তাকে অস্বস্তিকর, ভয় বা লজ্জার অনুভূতি দেয়।
‘গুড টাচ’হলো এমন স্পর্শ, যা শিশুকে নিরাপদ ও স্বস্তিকর অনুভব করায়—যেমন মা–বাবার আদর। আর ‘ব্যাড টাচ’হলো এমন স্পর্শ, যা শিশুর ব্যক্তিগত সীমারেখা ভঙ্গ করে এবং তাকে অস্বস্তিতে ফেলে।

শিশুকে ‘গুড টাচ–ব্যাড টাচ’ শেখানো মানে তাকে ভয় পাইয়ে দেওয়া নয়; বরং তাকে সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা। শিশুকে বুঝিয়ে বলতে হবে, তার শরীর তার নিজের। কেউ তার অনুমতি ছাড়া এমনভাবে স্পর্শ করতে পারে না, যাতে সে অস্বস্তি বোধ করে। একই সঙ্গে শিশুকে এটাও শেখাতে হবে যে খারাপ কোনো ঘটনা গোপন রাখা উচিত নয়।
অনেক অভিভাবক মনে করেন, ছোট শিশুদের এসব শেখালে তারা ‘অতিরিক্ত বড়দের মতো’ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বয়স উপযোগী ভাষায় নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া শিশুর মানসিক বিকাশেরই অংশ। বরং সচেতন শিশুরা বিপজ্জনক পরিস্থিতি দ্রুত বুঝতে পারে এবং সাহায্য চাইতে শেখে।
শুধু পরিবার নয়, স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিশু নিরাপত্তা শিক্ষা জরুরি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় থাকলে শিশুর আচরণগত পরিবর্তন সহজে বোঝা যায়। শিশুকে এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে সে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে এবং জানে—তার কথা গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হবে।
শিশুকে শেখাতে হবে—কোনো আচরণ খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ‘না’বলতে, সেখান থেকে দূরে সরে যেতে এবং বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানাতে।
যেমন আমরা শিশুকে আগুন, রাস্তা বা অপরিচিত মানুষের ব্যাপারে সতর্ক করি, ঠিক তেমনি শরীরের নিরাপত্তা সম্পর্কেও সচেতন করা প্রয়োজন।
শিশুদের নিরাপত্তা শিক্ষা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্বগুলোর একটি।



