সরকারের সহযোগিতা চায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত মাতিয়া বানু শুকু

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রযোজক ও গুণী নাট্যকার-নির্মাতা মাতিয়া বানু শুকু বর্তমানে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন এই নির্মাতার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়েছে পরিবার। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার স্বামী নূরুল আলম আতিক।
গুনী নির্মাতা আতিক বলেন, ‘আমার স্ত্রী মাতিয়া বানু শুকু শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে।’ আতিক বলেন, ‘আমরা নাটকের মানুষ। আমরা যারা নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করি, আমাদের তো আলাদা কোনো সুযোগ-সুবিধা বা কোনো পেনশন নেই। কাজটাই আমাদের ভরসা। হঠাৎ আমাদের মধ্যে কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে পরিবারের জন্য সেটা অনেক বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি তাঁর পাশে থাকতে। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যয় আমাদের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।’ এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রায় আট মাস আগে মাতিয়া বানু শুকুর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তাকে চেন্নাইয়ে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। ২৩ এপ্রিল আবার চেন্নাইয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এখন সেই প্রস্তুতির মধ্যেই রয়েছি। এই মুহূর্তে খরচ নিয়ে বেশি ভাবতে হচ্ছে। শুরু থেকেই আমাদের পরিবারের দুজনই আমরা নাটক ও সিনেমা পরিচালনা করে আসছি। এটাই আমাদের আয়ের উৎস। গত বছর ক্যানসার ধরা পরার পরে থেকে আমরা কেউই কাজে নিয়মিত নই। এদিকে চেন্নাইতে এর চিকিৎসা খরচ অনেক। এ ছাড়া চিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরে করে যেতে হবে। এই অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’ মাতিয়া বানু শুকুর বরাত দিয়ে আতিক সবশেষে বললেন, ‘মাতিয়া বানু শুকু বন্ধু, প্রিয়জন দর্শকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
মাতিয়া বানু শুকু ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের জ্যেষ্ঠ কন্যা। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাতিয়া বানু বাংলাদেশের ছোট পর্দা এবং চলচ্চিত্রে অত্যন্ত সৃজনশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত জীবন ও সামাজিক বাস্তবতার গল্পগুলো তার নির্মাণে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে। তিনি ২০২১ সালের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমার জন্য প্রযোজক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া ‘গোল্লাছুট’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ এবং ‘প্রজ্ঞা পারমিতা’-এর মতো জনপ্রিয় টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নাটক রচনা ও পরিচালনা করেছেন।



